ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

গোদাগাড়ীতে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ

মোঃ মনোয়ার হোসেনঃ 

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর জামাতা।

 

৬ মে (বুধবার) দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর মহল্লার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ৩ মে রোববার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় তার শ্বশুর বাবুল আখতারের বাড়িতে যান।

 

এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতারকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র দাবি করেন। এনআইডি না দিলে তারা জোরপূর্বক মোবাইলে ছবি তোলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বলেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয়।

 

কামরুজ্জামানের দাবি, তার শ্বশুর বাবুল আখতার একজন শ্রমজীবী মানুষ। তিনি ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন এবং এলাকায় থাকেন না। তিনি কখনোই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো জিডি বা মামলাও নেই।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা থানার ওসি আতিকুর রহমানের অনুমতি না নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এসআই জুয়েল রানার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘থানায় গিয়ে সরাসরি কথা বলতে’ বলেন। সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

 

এএসআই মজনু বলেন, আমাকে সেকেন্ড স্যার (এসআই জুয়েল) নিয়ে গেছে।আপনারা তার সাথে কথা বলেন এবং ওসির সাথে কথা বলেন। আমি কারও কাছে টাকা পয়সা চাইনি। যা বলার সেকেন্ড স্যারকে ( এসআই জুয়েল) বলেন।

 

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দেইনি। এসআই জুয়েল কেন এমনটি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। তালিকাভুক্ত কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার বিষয়ে আমার কোনো নির্দেশনা নেই। পরে এসআই জুয়েলের সাথে থাকা এএসআই মজনুকে ডেকে শাষিয়েছেন ওসি।তিনি বলেন, যে কাজ দিয়েছি সেই কাজ করেন। আপনাদের বলেছি আমি যে, আমার সাথে দেখা করার কথা। যা বলেছি তাই করেন। বেশি কিছু কইরেন না।

এসআই জুয়েল রানা বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশ মাদক কারবারিকে থানায় ডাকা হয়েছিলো। আমি কারো নিকট অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সব্যসাচী লেখক ড. শাহনাজ পারভীনের জন্মদিন আজ

error: Content is protected !!

গোদাগাড়ীতে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ৬ ঘন্টা আগে
মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ মনোয়ার হোসেনঃ 

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর জামাতা।

 

৬ মে (বুধবার) দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর মহল্লার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ৩ মে রোববার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় তার শ্বশুর বাবুল আখতারের বাড়িতে যান।

 

এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতারকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র দাবি করেন। এনআইডি না দিলে তারা জোরপূর্বক মোবাইলে ছবি তোলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বলেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয়।

 

কামরুজ্জামানের দাবি, তার শ্বশুর বাবুল আখতার একজন শ্রমজীবী মানুষ। তিনি ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন এবং এলাকায় থাকেন না। তিনি কখনোই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো জিডি বা মামলাও নেই।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা থানার ওসি আতিকুর রহমানের অনুমতি না নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এসআই জুয়েল রানার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘থানায় গিয়ে সরাসরি কথা বলতে’ বলেন। সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

 

এএসআই মজনু বলেন, আমাকে সেকেন্ড স্যার (এসআই জুয়েল) নিয়ে গেছে।আপনারা তার সাথে কথা বলেন এবং ওসির সাথে কথা বলেন। আমি কারও কাছে টাকা পয়সা চাইনি। যা বলার সেকেন্ড স্যারকে ( এসআই জুয়েল) বলেন।

 

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দেইনি। এসআই জুয়েল কেন এমনটি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। তালিকাভুক্ত কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার বিষয়ে আমার কোনো নির্দেশনা নেই। পরে এসআই জুয়েলের সাথে থাকা এএসআই মজনুকে ডেকে শাষিয়েছেন ওসি।তিনি বলেন, যে কাজ দিয়েছি সেই কাজ করেন। আপনাদের বলেছি আমি যে, আমার সাথে দেখা করার কথা। যা বলেছি তাই করেন। বেশি কিছু কইরেন না।

এসআই জুয়েল রানা বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশ মাদক কারবারিকে থানায় ডাকা হয়েছিলো। আমি কারো নিকট অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।


প্রিন্ট