ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় গত বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযোগ উঠেছে,১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকদের অবহিত করলেও প্রথমে তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। বরং পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।

 

তবে নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টার বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরীক্ষা শেষে তারা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সবাই নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

 

ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন,একজন পরীক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এক ঘণ্টার ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

 

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী জানান,প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন,পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সব্যসাচী লেখক ড. শাহনাজ পারভীনের জন্মদিন আজ

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় গত বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

আপডেট টাইম : ১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযোগ উঠেছে,১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকদের অবহিত করলেও প্রথমে তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। বরং পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।

 

তবে নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টার বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরীক্ষা শেষে তারা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সবাই নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

 

ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন,একজন পরীক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এক ঘণ্টার ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

 

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী জানান,প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন,পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


প্রিন্ট