ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয়দানকারী আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর অবশেষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় চারজন এজাহার নামীয় আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শামীম হত্যাকান্ডে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছিলাে। কারণে জানিয়েছিল মামলা করলে নতুন ঝামেলা তৈরি হবে। সে কারণে তারা মামলা করতে চাচ্ছিল না।পুলিশের চাপে পরে নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ভাই শামীম হত্যাকান্ডের ঘটনার বিবারণ দিয়ে এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি বলেন মামলায় চারজন এজাহার নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছিল।
মামলার এজাহারে ফজলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, তাঁর ছোট ভাই মো. আবদুর রহমানের (৫৭) ফিলিপনগরে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ আছে। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাঁর ভাই বাড়িতে অবস্থিত দরবারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজীবসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন আসামি একযোগে সংঘবদ্ধ হয়ে হাতে লোহার রড, হাঁসুয়া, দা, ছুরি, কুড়াল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে দরবার শরিফে অনধিকার প্রবেশ করে। দরবারের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে।
আসামি রাজীবসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা দরবার শরিফের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে জোবায়ের (৩১) নামের একজনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর আসামি রাজীব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের কোমর বরাবর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা আবদুর রহমানকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার ওপর, ডান চোয়ালের কাছে, ঠোঁটের মধ্যে, থুতনিতে, পিঠের বাঁ পাশে ও ডান পায়ের হাঁটুর পেছনে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন এবং বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। আবদুর রহমানের চিৎকারে দরবার শরিফের পরিচারিকা জামিরন দৌড়ে যান। অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিতে গেলে কোপটি বাঁ হাত দিয়ে ঠেকালে বাঁ হাতের কবজির ওপরের অংশের মাংস কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহারে আরাে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। অজ্ঞাতনামা আসামিরা আব্দুর রহমানের দরবার শরিফে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে ১০ লাখ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে।
উল্লেখ্য,ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপ নগরে নিজ আস্তানায় কয়েক শো মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণে গত ১১ এপ্রিল শনিবার নিহত হন শামীম। আস্তানায় দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর এবং আগুন লাগানো হয়। এছাড়া সেখান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠে।
পীর শামীমের ভক্তআশেকান জমিরনসহ আরও কয়েকজন বলেন, যারা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছিল, তারা সংখ্যায় প্রায় ১-২শ’ লােক ছিলাে। বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের এর মধ্যে। কেউ কেউ বড় ছিল। তারা আরও বলেন, তাদের আসা দেখে আমরা ভেবেছিনু হয়তো কোনো আলোচনা করতে আসছে। কিন্তু তারা ভাঙচুর, হামলা, বাবাকে মেরে ফেলবে এটা বুঝতে পারিনি। পরে বুঝছি তারা প্রস্তুতি নিয়ে আইছিল। পরিকল্পনা করে বাবাকে হত্যা করেছে।
দরবারে সরেজমিনে দেখা গেল, দুটি দালানের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। আগুনে ছাই হয়ে গেছে দুটি আধা পাকা ঘর। একটি ঘর থেকে ধোঁয়ার গন্ধ ছড়াচ্ছিলাে। ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে আছে। দরবারের সামনে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে শামীম ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও গান-বাজনা করে মরদেহ দাফন করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, থানায় শামীম হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সবাই পালাতক। কাউকে আটক করা হয়নি।ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার 





















