ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

৭ দফা দাবি না মানলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: কুষ্টিয়ায় জামায়াত আমির

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তাঁদের উত্থাপিত সাত দফার একটিও দলীয় দাবি নয়, বরং এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবি। সরকার এই সাত দফা মেনে নিলে এক দফার কোনো প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি মানা না হলে দেশের ও জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এক দফার ডাক দেওয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চের গাড়িবহর প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। যাত্রাপথে বহরটি হানিফ ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর, ঝিনাইদহ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে। পথে পথে একাধিক পথসভা শেষে জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে স্টেডিয়ামের মঞ্চে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। কিন্তু সরকার সেই শহীদদের সম্মান করে না, সম্মান করলে তারা শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করত। বর্তমান সংসদ গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ মূল্যবান ভোট দিয়ে যে সংসদ গঠন করেছে, তার পাশাপাশি একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, যারা সংসদে বসেই ফয়সালা করবে। কিন্তু সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই জনতার রায়কে অপমান ও অবজ্ঞা করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে ইতিহাসের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে কোনো টাকা-পয়সা বা বিরিয়ানি দেওয়া হবে না। তবে জীবন গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।

এর আগে রাত ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় জামায়াত আমির সরকারের বিরুদ্ধে জাতির সাথে প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই এই রায় অক্ষরে অক্ষরে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার তা রাখেনি। সরকারের একজন মুখপাত্র সংসদে দাঁড়িয়ে ‘জুলাই সনদ’কে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বললেও মূলত সরকারই গণভোট না মেনে জাতির সাথে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তিনি মন্তব্য করেন, গরম ভাতে বিড়ালের সমস্যা হয় বলেই সরকার জনগণের রায় মানতে চাইছে না।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশকে আর কোনোদিন অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং দেশে আর কারও বাপ-দাদার তালুকদারিও প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। আশানুরূপ ফল না পেলে যেকোনো মুহূর্তে সাত দফা এক দফায় পরিণত হবে এবং ঢাকামুখী মার্চের জন্য প্রস্তুত থাকতে তিনি জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সমাপনী সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা বক্তব্য প্রদান করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিজ হেরে ওয়ার্নারের কাঠগড়ায় অস্ট্রেলিয়া

error: Content is protected !!

৭ দফা দাবি না মানলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: কুষ্টিয়ায় জামায়াত আমির

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তাঁদের উত্থাপিত সাত দফার একটিও দলীয় দাবি নয়, বরং এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবি। সরকার এই সাত দফা মেনে নিলে এক দফার কোনো প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি মানা না হলে দেশের ও জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এক দফার ডাক দেওয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চের গাড়িবহর প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। যাত্রাপথে বহরটি হানিফ ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর, ঝিনাইদহ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে। পথে পথে একাধিক পথসভা শেষে জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে স্টেডিয়ামের মঞ্চে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। কিন্তু সরকার সেই শহীদদের সম্মান করে না, সম্মান করলে তারা শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করত। বর্তমান সংসদ গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ মূল্যবান ভোট দিয়ে যে সংসদ গঠন করেছে, তার পাশাপাশি একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, যারা সংসদে বসেই ফয়সালা করবে। কিন্তু সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই জনতার রায়কে অপমান ও অবজ্ঞা করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে ইতিহাসের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে কোনো টাকা-পয়সা বা বিরিয়ানি দেওয়া হবে না। তবে জীবন গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।

এর আগে রাত ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় জামায়াত আমির সরকারের বিরুদ্ধে জাতির সাথে প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই এই রায় অক্ষরে অক্ষরে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার তা রাখেনি। সরকারের একজন মুখপাত্র সংসদে দাঁড়িয়ে ‘জুলাই সনদ’কে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বললেও মূলত সরকারই গণভোট না মেনে জাতির সাথে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তিনি মন্তব্য করেন, গরম ভাতে বিড়ালের সমস্যা হয় বলেই সরকার জনগণের রায় মানতে চাইছে না।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশকে আর কোনোদিন অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং দেশে আর কারও বাপ-দাদার তালুকদারিও প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। আশানুরূপ ফল না পেলে যেকোনো মুহূর্তে সাত দফা এক দফায় পরিণত হবে এবং ঢাকামুখী মার্চের জন্য প্রস্তুত থাকতে তিনি জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সমাপনী সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা বক্তব্য প্রদান করেন।