ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বালু উত্তোলনের দুটি এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজারের পাশে রায়টা নতুন পাড়া এলাকার ডগপাড়া তড়িয়ামহলে মো. আরিফুল ও মো. শিলনের দুটি এক্সকাভেটর শুক্রবার রাত ৩টার দিকে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বাহাদুরপুর রায়টা নতুন পাড়া এলাকার ডগপাড়া তড়িয়ামহলের ইজারাদার মো. তামিম রেজা জানান, ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীদের কারও সাথে কারও ব্যক্তিগত কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। গতকাল শুক্রবার রাত ১টার দিকে আমি একটা ড্রাম ট্রাক লোড দিয়ে বাড়ি চলে যাই। ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আমার চাচাতো ভাই ফোন দিয়ে জানায় বেকুতে আগুন জ্বলছে। এসময় এখানে কেউ ছিল না। আমি এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে পাশের আরিফুলের বেকুতেও আগুন জ্বলছে। সবাই আরিফুলের বেকুতে আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি পরে পানির পাইপ সেট করে শিলনের বেকুটি আগুন নিভাই।

জুনিয়াদহ হরিপুর গ্রামের এক্সকাভেটর মালিক মো. শিলন বলেন, আমি রাত সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি স্থানীয় এলাকাবাসীরা আমার বেকুর আগুন নিভাচ্ছে। আমার বেকুটির দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা, আনুমানিক আমার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। থানায় এখনো অভিযোগ করিনি তবে করব। কে বা কারা আমার বেকুতে আগুন দিয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। তবে আমার সাথে কারোর কোনো শত্রুতা নেই।

রায়টা পুরাতন ঈদগাহ বালির ঘাটের এক্সকাভেটর মালিক মো. আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমার বেকুটি রাতের আঁধারে কে বা কারা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এখন ভেড়ামারায় যাচ্ছি মিস্ত্রি ডাকতে। থানায় অভিযোগ করিনি এখনো। আমার অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী মো. শ্যামল জানান, যখন আগুন লাগে তখন রাত সাড়ে ৩টা বাজে আমিসহ এলাকাবাসী প্রায় ১০-২০ জন লোক মিলে মটারের পানি সেট করে ও বালু মেরে আগুন নিভায়। বাড়িতে কেউ না থাকা ছিল না পরে এলাকায় মানুষ সবাই ছিল এখানে। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা আমরা দেখি নাই। আমরা ঘুম থেকে এসে দেখি শিলনের বেকুতে আগুন জ্বলছে আবার আরিফুলের বেকুতেও আগুন জ্বলছে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে পানি ও বালু মেরে আমরা এলাকাবাসী আগুন নেভাই।

ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম শেখ জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে উনাদের সাথে আমার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে, আসলে তেমন কিছু হয়নি, আগুন লেগেছিল। তবে কারা, কে বা কেন আগুন লাগিয়েছে এ ব্যাপারে তারা কিছু বলতে পারল না। তাদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা সেখানে ছিলেন কিনা তারা বলল আমরা কেউ ছিলাম না আর কে বা কারা আগুন দিয়েছে আমরা কিছু দেখিও নি।

এলাকাবাসী জানান, একটি কুচক্রী মহল বা অপরাধী চক্র পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি সাধন ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে বা শত্রুতার জেরে না হলেও, এই ধরনের আকস্মিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির ওপর ভিত্তিহীন সন্দেহ না করে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বালু উত্তোলনের দুটি এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজারের পাশে রায়টা নতুন পাড়া এলাকার ডগপাড়া তড়িয়ামহলে মো. আরিফুল ও মো. শিলনের দুটি এক্সকাভেটর শুক্রবার রাত ৩টার দিকে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বাহাদুরপুর রায়টা নতুন পাড়া এলাকার ডগপাড়া তড়িয়ামহলের ইজারাদার মো. তামিম রেজা জানান, ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীদের কারও সাথে কারও ব্যক্তিগত কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। গতকাল শুক্রবার রাত ১টার দিকে আমি একটা ড্রাম ট্রাক লোড দিয়ে বাড়ি চলে যাই। ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আমার চাচাতো ভাই ফোন দিয়ে জানায় বেকুতে আগুন জ্বলছে। এসময় এখানে কেউ ছিল না। আমি এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে পাশের আরিফুলের বেকুতেও আগুন জ্বলছে। সবাই আরিফুলের বেকুতে আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি পরে পানির পাইপ সেট করে শিলনের বেকুটি আগুন নিভাই।

জুনিয়াদহ হরিপুর গ্রামের এক্সকাভেটর মালিক মো. শিলন বলেন, আমি রাত সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি স্থানীয় এলাকাবাসীরা আমার বেকুর আগুন নিভাচ্ছে। আমার বেকুটির দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা, আনুমানিক আমার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। থানায় এখনো অভিযোগ করিনি তবে করব। কে বা কারা আমার বেকুতে আগুন দিয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। তবে আমার সাথে কারোর কোনো শত্রুতা নেই।

রায়টা পুরাতন ঈদগাহ বালির ঘাটের এক্সকাভেটর মালিক মো. আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমার বেকুটি রাতের আঁধারে কে বা কারা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এখন ভেড়ামারায় যাচ্ছি মিস্ত্রি ডাকতে। থানায় অভিযোগ করিনি এখনো। আমার অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী মো. শ্যামল জানান, যখন আগুন লাগে তখন রাত সাড়ে ৩টা বাজে আমিসহ এলাকাবাসী প্রায় ১০-২০ জন লোক মিলে মটারের পানি সেট করে ও বালু মেরে আগুন নিভায়। বাড়িতে কেউ না থাকা ছিল না পরে এলাকায় মানুষ সবাই ছিল এখানে। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা আমরা দেখি নাই। আমরা ঘুম থেকে এসে দেখি শিলনের বেকুতে আগুন জ্বলছে আবার আরিফুলের বেকুতেও আগুন জ্বলছে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে পানি ও বালু মেরে আমরা এলাকাবাসী আগুন নেভাই।

ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম শেখ জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে উনাদের সাথে আমার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে, আসলে তেমন কিছু হয়নি, আগুন লেগেছিল। তবে কারা, কে বা কেন আগুন লাগিয়েছে এ ব্যাপারে তারা কিছু বলতে পারল না। তাদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা সেখানে ছিলেন কিনা তারা বলল আমরা কেউ ছিলাম না আর কে বা কারা আগুন দিয়েছে আমরা কিছু দেখিও নি।

এলাকাবাসী জানান, একটি কুচক্রী মহল বা অপরাধী চক্র পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি সাধন ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে বা শত্রুতার জেরে না হলেও, এই ধরনের আকস্মিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির ওপর ভিত্তিহীন সন্দেহ না করে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।