রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ছেলে ও ছেলের বউকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ রেখে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম (৫০)। সে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া থান্ডারপাড়া গ্রামের মৃত তফেরউদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে উপজেলার মোহরকয়া থান্ডারপাড়া গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
তার ছেলে মোঃ আশিক ইকবাল (২০) জানান, গত কিছুদিন থেকে নেশার টাকা না দেওয়ায় আমার মা ও আমার সাথে আব্বার পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এই জেরে বুধবার আমার মা রাগ করে নানার বাড়িতে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমি ও আমার স্ত্রী ঘরে ভাত খাচ্ছিলাম। এ সময় ঘরের দরজায় তালা দিয়ে আটকিয়ে দোকান থেকে আনা পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় সে (বাবা)। এতে ঘরের আসবাবপত্র, দলিল, সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, সিলিন্ডার সহ প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে এলাকবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী আমিনুলকে এলাকাবাসী গণধোলাই দেয়।
পরে ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বলে নিশ্চিত করেছেন লালপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার এ কে এম লতিফুল বারী।
আমিনুলের ছেলে আশিক ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমিনুল মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলার মধ্যে ৩টি চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সে ৫০ বারের বেশি মাদক নিয়ে পুলিশের হাতে গেপ্তার হয়েছে। গতকাল (৩ এপ্রিল) রাতে থানায় তার বিরুদ্ধে ঘরে আগুন লাগানো ও মাদকের কারবার নিয়ে অভিযোগ জানালেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা জানামাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শঙ্কিত। যে কোন সময় সে আমাদের ক্ষতি করতে পারে। আমরা দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, চিকিৎসার জন্য আমিনুলকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে চলমান মাদক মামলা আদালতে প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবারের জিম্মায় চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আশিক ও তার মা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে ২০ বছর ধরে মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে কুখ্যাত এ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও অভিযোগ পত্র তৈরীর কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিকুর রহমান মিন্টু।
প্রিন্ট