ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০২৪, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

গোপালগঞ্জে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

গোপালগঞ্জে  উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিতে নিহত হওয়া ওয়াসিকুর ভুইয়ার লাশ নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। এ সময় সড়কটিতে টায়ারের মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সড়কের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু) ও বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের শুরু থেকেই গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালায়। অপরদিকে বিক্ষোভ মিছিলটিতে ক্রমে মানুষ যুক্ত হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর প্রায় তিন ঘন্টা পর সড়কটি দিয়ে যানবহন চলাচল শুরু হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গুলিতে নিহত ওয়াসিকুর ভুইয়ার মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর ব্যানারে প্রথমে কলেজ মাঠে ও পরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চেচানিয়া কান্দি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সড়কে লাশ রেখে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ বিক্ষোভ মিছিলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীসহ ছাত্র লীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (১৪মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদ্য সমাপ্ত হওয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুলের সমর্থকের সাথে পরাজিত প্রার্থী বি.এম লিয়াকত আলির সমর্থকের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে দু-দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।  সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

 

এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মোঃ ওয়াসিকুর ভুইয়া(২৭) নামের একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

নিহত ওয়াসিকুর ভূইয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের জলিল ভূইয়ার ছেলে। তিনি চন্দ্রদিঘলিয়ার ভূইয়া পাড়া এলাকায় চায়ের দোকান করতেন এবং তিনি পরাজিত প্রার্থী বি.এম লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার সমর্থক ছিলেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

গোপালগঞ্জে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জে  উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিতে নিহত হওয়া ওয়াসিকুর ভুইয়ার লাশ নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। এ সময় সড়কটিতে টায়ারের মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সড়কের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু) ও বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের শুরু থেকেই গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালায়। অপরদিকে বিক্ষোভ মিছিলটিতে ক্রমে মানুষ যুক্ত হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর প্রায় তিন ঘন্টা পর সড়কটি দিয়ে যানবহন চলাচল শুরু হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গুলিতে নিহত ওয়াসিকুর ভুইয়ার মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর ব্যানারে প্রথমে কলেজ মাঠে ও পরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চেচানিয়া কান্দি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সড়কে লাশ রেখে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ বিক্ষোভ মিছিলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীসহ ছাত্র লীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (১৪মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদ্য সমাপ্ত হওয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুলের সমর্থকের সাথে পরাজিত প্রার্থী বি.এম লিয়াকত আলির সমর্থকের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে দু-দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।  সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

 

এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মোঃ ওয়াসিকুর ভুইয়া(২৭) নামের একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

নিহত ওয়াসিকুর ভূইয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের জলিল ভূইয়ার ছেলে। তিনি চন্দ্রদিঘলিয়ার ভূইয়া পাড়া এলাকায় চায়ের দোকান করতেন এবং তিনি পরাজিত প্রার্থী বি.এম লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার সমর্থক ছিলেন।