নুরুল ইসলামঃ
ফরিদপুরে ফিউচারদেশ কোম্পানির দখলদারিত্ব ও প্রতারণার অভিযোগ থেকে মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে মেসার্স পারচর এগ্রো কমপ্লেক্স অ্যান্ড আমিনা হ্যাচারীজ-এর পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক শামীমা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক আক্তার মণ্ডল এবং তাদের পুত্র আমির আল সাইম। এছাড়া ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শামীমা আক্তার জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ফিউচারদেশ কোম্পানি তার “পারচর এগ্রো কমপ্লেক্স” নামের পোল্ট্রি ফার্ম পরিদর্শন করে ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ৩৫ মাস মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বছর মাসিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পরবর্তী দুই বছর মাসিক ৩ লাখ টাকা এবং শেষ বছরে মাসিক ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তাকে কোম্পানির কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চতুর্থ মাস থেকে মাসিক ১ লাখ টাকা বেতন দেওয়ার শর্ত ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তি সম্পাদনের পর কোম্পানি ফার্মের দখল নিলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি। বরং প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাবদ প্রায় ৫৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয় হলেও কোম্পানি মাত্র ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮৫ টাকা পরিশোধ করেছে। বর্তমানে পরিচালন ব্যয় ও বকেয়া ভাড়াসহ মোট প্রায় ২২ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল কোম্পানির পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা পরিশোধ না করায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। পাওনা আদায়ের জন্য রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তিনটি নোটিশ পাঠানো হলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হলেও কোম্পানি এখনো ফার্মের দখল ছাড়েনি। বরং মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ফিউচারদেশ কোম্পানি প্রকৃতপক্ষে পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়; বরং বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। তার অনুমতি ছাড়াই ফার্মের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এছাড়া তার মালিকানাধীন “আমিনা হ্যাচারী” নামক প্রতিষ্ঠানের দুটি সেড মাসিক ভাড়া ছাড়াই অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চুক্তির দিন জোরপূর্বক ৩৯ হাজার অপরিপক্ব মুরগি বিক্রি করানোয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব ঘটনায় আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ন্যায়বিচার পেতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান।
প্রিন্ট

কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন 
নুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি 










