অপি মুন্সীঃ
মাদারীপুরের শিবচরে চান্দের চর বাজারে সোহেল কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। নিহতের পরিবার সুত্রের অভিযোগ নিহিত সোহেল কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এটি আত্মহত্যা নয় পুর্ব- পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এর আগে গত মঙ্গলবার ২৪শে ফেব্রুয়ারী উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর গ্রামে সোহেল ব্যাপারি (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সকালে বাড়ির পাশের একটি বড়ই গাছে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান চাচাতো বোন মুসলিমা আক্তার। পরে স্থানীয়দের জানানো হলে খবর পেয়ে ইউপি সদস্য ফারুক মাদবর ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন।
পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাই জুবায়ের ব্যাপারি জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে সোহেল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, পাশের জিরা ক্ষেতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে আত্মহত্যা বলে চালাতে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাস্থলের পাশের জিরা ক্ষেতের কিছু অংশ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৫) অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত হাসান মাদবর আগের দিন তার বাবাকে মারধর করেছিলেন। সে কারণে তার বাবা রাতে বাইরে যেতে ভয় পেতেন। বিশ্বস্ত কেউ ফোন করায় তিনি ঘর থেকে বের হন। পরে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়, মানবন্ধনে তিনি বলেন আমার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে আমি এর বিচার চাই, খুনিদের ফাসি চাই। সুমাইয়া আরো বলেন এর আগে সুমাইয়া নামের একটি মেয়ে কে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে এই খুনি চক্র। সেই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে আজ আমার বাবা কে হারাতে হতো না।
নিহতের স্ত্রী বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হাসান মাদবর ও তার সহযোগীরা সোহেলকে মারধর করেন। পরে ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা মামলায় নাম না জড়াতে অনুরোধ করেছেন এবং আমরা থানায় গেলে আমাদের অভিযোগ না নিয়ে আমাদের কে থানা থেকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন আমরা গরিব বলে কি আমরা বিচার পাবোনা?
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সোহেল ব্যাপারি ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সুদের টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে নিহতের পরিবার নির্দিষ্ট কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ বিষয়ে শিবচর থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে পাওয়া যায় নি তাকে মুঠোফোনেও পাওয়া যায়নি।
এর আগে শিবচর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিন্ট

কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন 
অপি মুন্সী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 











