ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বিএনপির সংকট, আত্মসমালোচনার দায় এবং ডাকসু নির্বাচনের শিক্ষা

নাজিম রুবেলঃ

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একসময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি ক্ষমতায় থেকেছে, আবার আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষায়ও ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আজ বিএনপি রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দলটি সরকারের দমননীতির শিকার হলেও, বিএনপির ভেতরের অসংগতি, নেতৃত্বহীনতা, গ্রুপিং, স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং আত্মসমালোচনার অভাবই আজকের বড় সংকট তৈরি করেছে।

 

বিক্রির রাজনীতি ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দলের ভেতরের বড় বড় নেতাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ চলে আসছে। অনেকে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় আওয়ামী লীগের সাথে গোপন সমঝোতায় গেছেন। কেউ আবার দলের সংগ্রামী চরিত্রকে দুর্বল করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন। এসব নেতাদের কারণে মূল নেতৃত্ব—বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিএনপি কি সত্যিই একটি বিকল্প শক্তি, নাকি কেবল ক্ষমতার দৌড়ে অংশ নেওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান?

 

নেতৃত্বের এই ব্যর্থতা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে। দিশাহীনতা, হতাশা আর অনিশ্চয়তা এখন বিএনপির রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
আত্মসমালোচনা ছাড়া মুক্তি নেই, রাজনীতিতে আত্মসমালোচনা খুবই জরুরি। কিন্তু বিএনপি এই জায়গায় একেবারেই দুর্বল। দলের ভেতরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং উশৃঙ্খল আচরণের অসংখ্য অভিযোগ আছে। জনগণ বারবার দেখেছে—কোনো নেতাকর্মী অপরাধ করলে তাকে হয়ত সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়, কিন্তু কার্যকর কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। ফলে অপরাধী রাজনীতি থেকে বাদ না গিয়ে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।

একটা রাজনৈতিক দল যদি নিজের ভেতরের অপরাধীদের শাস্তি দিতে না পারে, তবে জনগণের চোখে সেই দলের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। বিএনপি যদি সত্যিই নতুন আস্থা অর্জন করতে চায়, তবে শুধু বহিষ্কার নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলা করে সরাসরি আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। এতে দল যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে, তেমনি জনগণও দেখবে—বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছে।

ডাকসু নির্বাচনের ব্যর্থতা: একটি বড় শিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বিএনপির জন্য ছিল একটি বড় সুযোগ। এক দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ছাত্রদল প্রমাণ করতে পারত, তারা এখনও ছাত্ররাজনীতিতে শক্তিশালী, তাদের কাছে নতুন প্রজন্মের জন্য ভিশন আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ছাত্রদল কার্যত ভরাডুবি করেছে।

কেন এই ব্যর্থতা?

১. দীর্ঘদিন ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে অচল করে রাখা হয়েছে।
২. তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবহেলা করা হয়েছে।
৩. দুর্নীতি, গ্রুপিং ও সুযোগসন্ধানী নেতৃত্ব ছাত্রদলের ভেতর আস্থা ধ্বংস করেছে।
৪. নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ না রেখে কেবল সমালোচনা করে রাজনীতি চালানো হয়েছে।

ফলাফল হলো—যুব সমাজ আর ছাত্রদলে আস্থা রাখেনি। অথচ ছাত্রলীগের নানা অনিয়ম, দখলবাজি এবং সন্ত্রাস সবার জানা সত্ত্বেও ছাত্রদল বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এটা বিএনপির সামগ্রিক ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি।

 

তরুণ সমাজকে হারানো মানে ভবিষ্যৎ হারানো, ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করেছে যে তরুণ সমাজ বিকল্প শক্তি খুঁজছে, কিন্তু বিএনপি সেই বিকল্প হতে পারছে না। তরুণরা শুধু সরকারবিরোধী স্লোগান শুনতে চায় না; তারা চায় ইতিবাচক ভিশন, স্বচ্ছতা এবং জনবান্ধব রাজনীতি। বিএনপি যদি এই জায়গায় পরিবর্তন না আনে, তবে ভবিষ্যতে দলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

করণীয়: ঘর গোছানো ও নতুন বার্তা, বিএনপিকে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমত, দলের ভেতরের দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বহিষ্কার করলেই দায় শেষ নয়—তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নতুন প্রজন্মকে কাছে টানতে হবে। তরুণরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর, শিক্ষিত এবং সচেতন। তারা শুধু অতীতের গৌরবগাথা শুনে সন্তুষ্ট হয় না। তাদের সামনে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত ভিশন উপস্থাপন করতে হবে।

 

তৃতীয়ত, বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই পরিবর্তিত হয়েছে। স্বচ্ছ রাজনীতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামো এবং জনবান্ধব কর্মসূচি ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
বিএনপি আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের দমননীতি বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা একদিকে থাকলেও, দলের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন দল নিজেই।

 

আত্মসমালোচনা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। ডাকসু নির্বাচনের ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দিয়েছে—যদি সময়মতো নিজেদের ভুল শোধরানো না যায়, তবে তরুণ প্রজন্ম বিএনপিকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ এখনও আছে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিএনপিকে দেখাতে হবে—তারা কেবল মুখে নয়, কাজে পরিবর্তনের রাজনীতি করে। নইলে দলটি কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায়ে পরিণত হবে, আর জনগণ নতুন বিকল্প খুঁজে নেবে।

 

লেখক: নাজিম রুবেল, প্রবাসী লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

তানোরে তুলার গুদামে ভয়াবহ আগুন

error: Content is protected !!

বিএনপির সংকট, আত্মসমালোচনার দায় এবং ডাকসু নির্বাচনের শিক্ষা

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কমরেড খোন্দকার, ইউরোপ ব্যুরো প্রধান :

নাজিম রুবেলঃ

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একসময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি ক্ষমতায় থেকেছে, আবার আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষায়ও ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আজ বিএনপি রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দলটি সরকারের দমননীতির শিকার হলেও, বিএনপির ভেতরের অসংগতি, নেতৃত্বহীনতা, গ্রুপিং, স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং আত্মসমালোচনার অভাবই আজকের বড় সংকট তৈরি করেছে।

 

বিক্রির রাজনীতি ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দলের ভেতরের বড় বড় নেতাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ চলে আসছে। অনেকে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় আওয়ামী লীগের সাথে গোপন সমঝোতায় গেছেন। কেউ আবার দলের সংগ্রামী চরিত্রকে দুর্বল করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন। এসব নেতাদের কারণে মূল নেতৃত্ব—বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিএনপি কি সত্যিই একটি বিকল্প শক্তি, নাকি কেবল ক্ষমতার দৌড়ে অংশ নেওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান?

 

নেতৃত্বের এই ব্যর্থতা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে। দিশাহীনতা, হতাশা আর অনিশ্চয়তা এখন বিএনপির রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
আত্মসমালোচনা ছাড়া মুক্তি নেই, রাজনীতিতে আত্মসমালোচনা খুবই জরুরি। কিন্তু বিএনপি এই জায়গায় একেবারেই দুর্বল। দলের ভেতরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং উশৃঙ্খল আচরণের অসংখ্য অভিযোগ আছে। জনগণ বারবার দেখেছে—কোনো নেতাকর্মী অপরাধ করলে তাকে হয়ত সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়, কিন্তু কার্যকর কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। ফলে অপরাধী রাজনীতি থেকে বাদ না গিয়ে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।

একটা রাজনৈতিক দল যদি নিজের ভেতরের অপরাধীদের শাস্তি দিতে না পারে, তবে জনগণের চোখে সেই দলের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। বিএনপি যদি সত্যিই নতুন আস্থা অর্জন করতে চায়, তবে শুধু বহিষ্কার নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলা করে সরাসরি আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। এতে দল যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে, তেমনি জনগণও দেখবে—বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছে।

ডাকসু নির্বাচনের ব্যর্থতা: একটি বড় শিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বিএনপির জন্য ছিল একটি বড় সুযোগ। এক দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ছাত্রদল প্রমাণ করতে পারত, তারা এখনও ছাত্ররাজনীতিতে শক্তিশালী, তাদের কাছে নতুন প্রজন্মের জন্য ভিশন আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ছাত্রদল কার্যত ভরাডুবি করেছে।

কেন এই ব্যর্থতা?

১. দীর্ঘদিন ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে অচল করে রাখা হয়েছে।
২. তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবহেলা করা হয়েছে।
৩. দুর্নীতি, গ্রুপিং ও সুযোগসন্ধানী নেতৃত্ব ছাত্রদলের ভেতর আস্থা ধ্বংস করেছে।
৪. নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ না রেখে কেবল সমালোচনা করে রাজনীতি চালানো হয়েছে।

ফলাফল হলো—যুব সমাজ আর ছাত্রদলে আস্থা রাখেনি। অথচ ছাত্রলীগের নানা অনিয়ম, দখলবাজি এবং সন্ত্রাস সবার জানা সত্ত্বেও ছাত্রদল বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এটা বিএনপির সামগ্রিক ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি।

 

তরুণ সমাজকে হারানো মানে ভবিষ্যৎ হারানো, ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করেছে যে তরুণ সমাজ বিকল্প শক্তি খুঁজছে, কিন্তু বিএনপি সেই বিকল্প হতে পারছে না। তরুণরা শুধু সরকারবিরোধী স্লোগান শুনতে চায় না; তারা চায় ইতিবাচক ভিশন, স্বচ্ছতা এবং জনবান্ধব রাজনীতি। বিএনপি যদি এই জায়গায় পরিবর্তন না আনে, তবে ভবিষ্যতে দলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

করণীয়: ঘর গোছানো ও নতুন বার্তা, বিএনপিকে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমত, দলের ভেতরের দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বহিষ্কার করলেই দায় শেষ নয়—তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নতুন প্রজন্মকে কাছে টানতে হবে। তরুণরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর, শিক্ষিত এবং সচেতন। তারা শুধু অতীতের গৌরবগাথা শুনে সন্তুষ্ট হয় না। তাদের সামনে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত ভিশন উপস্থাপন করতে হবে।

 

তৃতীয়ত, বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই পরিবর্তিত হয়েছে। স্বচ্ছ রাজনীতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামো এবং জনবান্ধব কর্মসূচি ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
বিএনপি আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের দমননীতি বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা একদিকে থাকলেও, দলের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন দল নিজেই।

 

আত্মসমালোচনা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। ডাকসু নির্বাচনের ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দিয়েছে—যদি সময়মতো নিজেদের ভুল শোধরানো না যায়, তবে তরুণ প্রজন্ম বিএনপিকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ এখনও আছে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিএনপিকে দেখাতে হবে—তারা কেবল মুখে নয়, কাজে পরিবর্তনের রাজনীতি করে। নইলে দলটি কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায়ে পরিণত হবে, আর জনগণ নতুন বিকল্প খুঁজে নেবে।

 

লেখক: নাজিম রুবেল, প্রবাসী লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।


প্রিন্ট