ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দেবিদ্বারে এক মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

শিক্ষা ডেস্ক: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট তথা এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা গেছে। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বছর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় নম্বর তুলতে পারেনি। এর ফলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সার্বিক শিক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এবারের পরীক্ষায় দেবিদ্বার থেকে মোট দুই হাজার ছয়ানব্বই জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে মাত্র এক হাজার একান্ন জন শিক্ষার্থী। পুরো উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বিয়াল্লিশ দশমিক ছয় চার শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ হতাশাজনক। এছাড়া পুরো উপজেলাজুড়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বাগমারা ইসলামী আলিম মাদ্রাসা থেকে, যেখান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ওই মাদ্রাসা থেকে একুশজন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের একজনও সফলতার মুখ দেখেনি, ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে। এমন ফলাফল কেবল ওই প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, বরং পুরো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত পাঠদান ও তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।

ফলাফল বিপর্যয়ের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। তিনি জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণগুলো খুঁজে বের করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসিতে ক্রীড়াবিদদের উড়ন্ত সাফল্য

error: Content is protected !!

দেবিদ্বারে এক মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট তথা এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা গেছে। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বছর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় নম্বর তুলতে পারেনি। এর ফলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সার্বিক শিক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এবারের পরীক্ষায় দেবিদ্বার থেকে মোট দুই হাজার ছয়ানব্বই জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে মাত্র এক হাজার একান্ন জন শিক্ষার্থী। পুরো উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বিয়াল্লিশ দশমিক ছয় চার শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ হতাশাজনক। এছাড়া পুরো উপজেলাজুড়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বাগমারা ইসলামী আলিম মাদ্রাসা থেকে, যেখান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ওই মাদ্রাসা থেকে একুশজন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের একজনও সফলতার মুখ দেখেনি, ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে। এমন ফলাফল কেবল ওই প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, বরং পুরো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত পাঠদান ও তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।

ফলাফল বিপর্যয়ের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। তিনি জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণগুলো খুঁজে বের করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।