রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের তানোর উপজেলা সাতটি ইউনিয়ন (ইউপি) ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, যেখানে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় রোপা-আমণ। বর্তমানে প্রতিটি মাঠে শোভা পাচ্ছে রোপা-আমণের শীষ। মাঠের পর মাঠ, গ্রামের পর গ্রাম—এক কথায় পুরো উপজেলা জুড়ে হিমেল হওয়ায় দোল খাচ্ছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। প্রতিটি শীষে যেন কৃষকের জীবনের স্বপ্ন ভবিষৎ নির্ভর করছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির ভান্ডার তানোর, যেখানে অনেক এলাকায় ধানে পাক ধরেছে। দু’এক জায়গায় ধান কাটার কাজও শুরু হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পুরোদমে আমণ কাটা-মাড়াই শুরু হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড চাষ হয়েছে ২৮ হেক্টর, উফশী জাত ২২ হাজার ১১৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, রোপা-আমণের শুরুর দিকে কৃষকদের বেশ কিছু সমস্যা পোহাতে হয়েছে—বৃষ্টির অভাব এবং সার নিয়ে অসহযোগিতা। তবে রোপণের পর বৃষ্টির ফলে রোগ-বালাই কম হয়েছে।
স্বর্ণপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নুর মোহাম্মাদ জানান, এবারের ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, রোপণের সময় বৃষ্টির অভাবে কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে পরে বৃষ্টির কারণে কৃষকরা স্বস্তি পেয়েছেন। এবার ধানক্ষেতে রোগ-বালাই কম, এবং যেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে দ্রুত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হেক্টর প্রতি ৫.৫০ মেট্রিক টন ফলনের আশা রয়েছে।
উপজেলায় ধানের চাহিদা প্রায় ২০৫ মেট্রিক টন, তবে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৪৬ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন। সাইফুল্লাহ আহমেদ আরো জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়োপযোগী বৃষ্টির কারণে এবার অনেক জমিতে আমণ চাষ হচ্ছে, এবং সরকারীভাবে বীজ ও সারসহ বেশ কিছু সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















