ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে আলোচিত রণজিৎ হত্যার পলাতক আসামি গ্রেফতার

দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে শেষে সাফল্য পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতার করতে সক্ষম  হয়েছে গোপালগঞ্জের আলোচিত ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ রণজিৎ রায় হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামী মিল্টন খান (৪০)।

 

রণজিৎ রায় গত ১২ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত্র অনুমান ৮ ৩০ মিনিটের সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের মানিকহার মালোপাড়ায় খুন হয়। মৃত রণজিৎ রায় স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারী ছিলেন।

 

হত্যা কান্ডের পর এলাকাবাসী সূত্রে জানা গিয়েছিল চোখে টর্চ লাইটের আলো পড়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাই মিল্টন খান এবং শিপন খান  নৃশংসভাবে হত্যা করে রণজিৎ রায়কে। পরবর্তিতে পুলিশের তদন্তেও হত্যা কান্ডের একই বর্ণনা ফুটে উঠেছিল।

 

এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ২০২৩ সালের দূর্গাপূর্জার মাত্র কয়েকদিন পূর্বে হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা হওয়ার মত উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তৎকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনিচুর রহমান তার বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ নিসংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

 

এই ঘটনায় পরের দিন ১৩ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/ ৩০২/৫০৬ ধারায় পেনাল কোড মামলা রুজু হয়। মামলা নং- ১৩, তারিখ- ১৩-১০-২০২৩।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের মূল আসামী মিল্টন খাঁন (৪০) একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই মামলার পূর্বে তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতি সহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই আসামী মিল্টন খান এবং শিপন খান পালিয়ে যায়। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই।

 

এছাড়াও আসামীরা মোবাইল ব্যবহারও বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে ২নং আসামী শিপন খান মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়। আসামী মিল্টন খান পেশাদার অপরাধী হওয়ায় কোনভাবেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। পূর্বে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেও আসামী মিল্টন খানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই।

 

 

গতকাল ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আল বেলী আফিফা মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনিচুর রহমান এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পুখুরিয়া এলাকা হতে ৭ টা ৩০ মিনিটের সময় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিন্টন খান (৪০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মিল্টন খানের গ্রেফতারের সংবাদে স্থানীয়দে মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের সেঞ্চুরির পর আফ্রিদিদের তোপ, ৩৭ রানের জয়ে যাত্রা শুরু পাকিস্তানের

error: Content is protected !!

গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে আলোচিত রণজিৎ হত্যার পলাতক আসামি গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪
মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহিন, গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান :

দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে শেষে সাফল্য পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতার করতে সক্ষম  হয়েছে গোপালগঞ্জের আলোচিত ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ রণজিৎ রায় হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামী মিল্টন খান (৪০)।

 

রণজিৎ রায় গত ১২ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত্র অনুমান ৮ ৩০ মিনিটের সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের মানিকহার মালোপাড়ায় খুন হয়। মৃত রণজিৎ রায় স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারী ছিলেন।

 

হত্যা কান্ডের পর এলাকাবাসী সূত্রে জানা গিয়েছিল চোখে টর্চ লাইটের আলো পড়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাই মিল্টন খান এবং শিপন খান  নৃশংসভাবে হত্যা করে রণজিৎ রায়কে। পরবর্তিতে পুলিশের তদন্তেও হত্যা কান্ডের একই বর্ণনা ফুটে উঠেছিল।

 

এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ২০২৩ সালের দূর্গাপূর্জার মাত্র কয়েকদিন পূর্বে হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা হওয়ার মত উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তৎকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনিচুর রহমান তার বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ নিসংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

 

এই ঘটনায় পরের দিন ১৩ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/ ৩০২/৫০৬ ধারায় পেনাল কোড মামলা রুজু হয়। মামলা নং- ১৩, তারিখ- ১৩-১০-২০২৩।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের মূল আসামী মিল্টন খাঁন (৪০) একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই মামলার পূর্বে তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতি সহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই আসামী মিল্টন খান এবং শিপন খান পালিয়ে যায়। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই।

 

এছাড়াও আসামীরা মোবাইল ব্যবহারও বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে ২নং আসামী শিপন খান মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়। আসামী মিল্টন খান পেশাদার অপরাধী হওয়ায় কোনভাবেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। পূর্বে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেও আসামী মিল্টন খানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই।

 

 

গতকাল ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আল বেলী আফিফা মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনিচুর রহমান এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পুখুরিয়া এলাকা হতে ৭ টা ৩০ মিনিটের সময় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিন্টন খান (৪০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মিল্টন খানের গ্রেফতারের সংবাদে স্থানীয়দে মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।