ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

আমতলী বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, আ.লীগের ৪৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামী করে সাত ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৩৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ৪৪৩ জনের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েব ইসলাম হেলাল ৫৫ জন এবং পৌর যুবদল সভাপতি জাকির হাওালাদার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ঘটনায় এ মামলা করা হয়।
মামলা বিবরন সুত্রে জানাগেছে, গত ৫ আগষ্ট দুপুর পৌনে একটার দিকে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসানের নেতৃত্বে সাড়ে চার শতাধিক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মী আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর চালায়।
 এ সময় তারা (আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা) অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আমতলী উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েবইসলাম হেলাল ৫৫ জন এবং জাকির হাওলাদার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী হয়ে একই ঘটনায় আলাদা আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসান, সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান নান্নু, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন, গুলিশাখালী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম, গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনি, আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন, কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার, হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক, চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন, আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি একমাত্র নারী চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা ওআঠারোগাছিয়া যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং ৩৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ৪৪৩ জনকে আসামী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত নয় এমন ইউপি চেয়ারম্যান ও নিরহ মানুষকে হয়রানী করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
 মামলার আসামী সোহেল রানা বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরতো দুরের কথা আমি অফিসই চিনিনা কিন্তু আমাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ হয়রানীমুলক মামলা থেকে দ্রুত অব্যহতির দাবী জানান তিনি। আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্য্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আমি ঘটনার তিন দিন আগে থেকে পটুয়াখালী বাসয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে অহেতুক মামলায় জড়ানো হয়েছে। দ্রুত এ মামলা থেকে আমাকে অব্যহতি দেয়ার দাবী জানাই।
কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন মাসুম মাসুম তালুকদার বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরের সঙ্গে আমি জড়িত নয় কিন্তুআমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ হয়রানীমুলক মামলা থেকে আমাকে দ্রুত অব্যহতি দেয়ার দাবী জানান তিনি। দুইটি মামলার বাদী উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েব ইসলাম হেলাল ও পৌর যুবদল সভাপতি জাকির হাওলাদার বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসানের নেতৃত্বে সাড়ে চার শতাধিক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছে এবং অফিসের মালামাল তছনছ করেছে। এ ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসান বলেন, একই ঘটনায় দুইটি আলাদা মামলা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় মামলা মিথ্যা।তিনি আরো বলেন, নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানী করতেই এ মামলা দেয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, হয়রানী করতেই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। ওই অফিস আমরা ভাংচুর করিনি। উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ অফিস দখল করে নিয়েছে।
আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, একই ঘটনায় দুইটি মামলায় ৯৩ জন আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং ৩৫০ জন অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যহত আছে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হানিফ পাপ্পুর তুলিতে রিকশাচিত্রের নতুন জীবন

error: Content is protected !!

আমতলী বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, আ.লীগের ৪৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট টাইম : ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪
মোঃ ইমরান হোসাইন, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামী করে সাত ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৩৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ৪৪৩ জনের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েব ইসলাম হেলাল ৫৫ জন এবং পৌর যুবদল সভাপতি জাকির হাওালাদার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ঘটনায় এ মামলা করা হয়।
মামলা বিবরন সুত্রে জানাগেছে, গত ৫ আগষ্ট দুপুর পৌনে একটার দিকে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসানের নেতৃত্বে সাড়ে চার শতাধিক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মী আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর চালায়।
 এ সময় তারা (আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা) অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আমতলী উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েবইসলাম হেলাল ৫৫ জন এবং জাকির হাওলাদার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী হয়ে একই ঘটনায় আলাদা আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসান, সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান নান্নু, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন, গুলিশাখালী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম, গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনি, আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন, কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার, হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক, চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন, আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি একমাত্র নারী চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা ওআঠারোগাছিয়া যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং ৩৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ৪৪৩ জনকে আসামী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত নয় এমন ইউপি চেয়ারম্যান ও নিরহ মানুষকে হয়রানী করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
 মামলার আসামী সোহেল রানা বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরতো দুরের কথা আমি অফিসই চিনিনা কিন্তু আমাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ হয়রানীমুলক মামলা থেকে দ্রুত অব্যহতির দাবী জানান তিনি। আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্য্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আমি ঘটনার তিন দিন আগে থেকে পটুয়াখালী বাসয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে অহেতুক মামলায় জড়ানো হয়েছে। দ্রুত এ মামলা থেকে আমাকে অব্যহতি দেয়ার দাবী জানাই।
কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ বোরহান উদ্দিন মাসুম মাসুম তালুকদার বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরের সঙ্গে আমি জড়িত নয় কিন্তুআমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ হয়রানীমুলক মামলা থেকে আমাকে দ্রুত অব্যহতি দেয়ার দাবী জানান তিনি। দুইটি মামলার বাদী উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোয়েব ইসলাম হেলাল ও পৌর যুবদল সভাপতি জাকির হাওলাদার বলেন, বিএনপি অফিস ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসানের নেতৃত্বে সাড়ে চার শতাধিক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছে এবং অফিসের মালামাল তছনছ করেছে। এ ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসান বলেন, একই ঘটনায় দুইটি আলাদা মামলা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় মামলা মিথ্যা।তিনি আরো বলেন, নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানী করতেই এ মামলা দেয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, হয়রানী করতেই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। ওই অফিস আমরা ভাংচুর করিনি। উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ অফিস দখল করে নিয়েছে।
আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, একই ঘটনায় দুইটি মামলায় ৯৩ জন আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং ৩৫০ জন অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যহত আছে।