ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খোকসায় শোমসপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান Logo গোপালগঞ্জ পলিটেকনিকালে ইনস্টিটিউট লেভেল স্কিলস কম্পিটিশন ও ক্রিড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্ম বিরতীর হুমকী Logo নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল জোনে ৮টি আখ মাড়াইকল জব্দ Logo বড়াইগ্রামে উন্মুক্ত লটারীর মাধ্যমে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ Logo বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রেলি ‌ও সমাবেশ ‌অনুষ্ঠিত Logo বোয়ালমারীতে যুবকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ Logo ফরিদপুর ব্যাটারি চালিত রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত Logo হাতিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলন সভাপতি সুমন সাধারণ সম্পাদক ফারুক Logo মুকসুদপুরে উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

বার্ষিক বনভোজনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে নৃত্য করায় সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার প্রধান শিক্ষক

রবিউল ইসলাম রুবেলঃ

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার বনভোজনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধের তাদের সাথে নৃত্য করেন। প্রধান শিক্ষকের ওই নৃত্যের ভিডিও তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সে ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

জানা যায়, ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নাটরের গ্রীণ ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে যায়। ওই দিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীদের সাথে গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেন।

 

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক (নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক) বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সাংস্কৃতিক মনা মানুষ। মূলত শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য তাদের অনুরোধে এমনটি করেছেন। এখানে কোন প্রকার অসংগতি দেখছি না। তাকে মূলত বির্তকিত করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এ ঘটনা তেমন কোন বিষয় না।

 

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাসান মাতবর বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়টির পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচারণ করেন। দায়িত্বের ব্যাপারে তার সুনাম রয়েছে। তার নৃত্যের ভিডিওটি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। তবে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এই ঘটনা স্বাভাবিক। এতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া নেই।

 

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্য আইয়ুব মাতবর বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষকের একটি নিত্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সেখানে কি হয়েছিল সেটা আমার জানা নেই। তবে যদি এই নৃত্য অসৎ উদ্দেশ্য করে থাকেন, তাহলে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে।

 

প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তা করার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নগরকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ তিনি বলেন, নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার নৃত্য করেছেন। বিষয় নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় রয়েছে। শিক্ষকের উপর অহেতুক চাপ প্রয়োগ করছে তারা।

 

এই ব্যপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তার শিকার শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার কলবেলাকে বলেন, মুলত আমি আমার শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো মনে করি। বিদ্যালয়ে আমি যেমন শিক্ষক সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের বাইরে তাদের সাথে সম্পর্ক টা থাকে বন্ধুসুলভ। শিক্ষার্থীরা বনভোজনে এসে আনন্দ করতে যাতে আমাদের উপস্থিতিতে সংকিত না হয় হয় সেই জন্য আমি এটা করেছি। তবে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এটা করা আমার ঠিক হয়নি।

 

তার বিরুদ্ধে কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে কিনা বা এই ব্যপারে তিনি আইনি সহযোগিতা চান কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা শিক্ষার্থী আমার সন্তানের মতো। যারাই আমাকে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করতে আমাকে বির্তকিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তারা হয়তো না বুঝে এটা করেছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যেটা স্পষ্ট, যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কাছে আমার ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার আমি মেনে নিতে পারছি না।

 

এই ঘটনার পর নগরকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভুমি মাসুম বিল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ফুলসুতি আবদুল আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সুশান্ত কুমারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। এই ব্যপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোন ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে এই ভিডিওতে আমি খারাপ কিছু পাই নাই। তিনি শিক্ষার্থীদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে এই নৃত্য করেছেন।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খোকসায় শোমসপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান

error: Content is protected !!

বার্ষিক বনভোজনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে নৃত্য করায় সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার প্রধান শিক্ষক

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
রবিউল ইসলাম রুবেল, স্টাফ রিপোর্টার :

রবিউল ইসলাম রুবেলঃ

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার বনভোজনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধের তাদের সাথে নৃত্য করেন। প্রধান শিক্ষকের ওই নৃত্যের ভিডিও তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সে ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

জানা যায়, ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নাটরের গ্রীণ ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে যায়। ওই দিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীদের সাথে গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেন।

 

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক (নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক) বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সাংস্কৃতিক মনা মানুষ। মূলত শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য তাদের অনুরোধে এমনটি করেছেন। এখানে কোন প্রকার অসংগতি দেখছি না। তাকে মূলত বির্তকিত করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এ ঘটনা তেমন কোন বিষয় না।

 

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাসান মাতবর বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়টির পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচারণ করেন। দায়িত্বের ব্যাপারে তার সুনাম রয়েছে। তার নৃত্যের ভিডিওটি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। তবে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এই ঘটনা স্বাভাবিক। এতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া নেই।

 

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্য আইয়ুব মাতবর বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষকের একটি নিত্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সেখানে কি হয়েছিল সেটা আমার জানা নেই। তবে যদি এই নৃত্য অসৎ উদ্দেশ্য করে থাকেন, তাহলে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে।

 

প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তা করার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নগরকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ তিনি বলেন, নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার নৃত্য করেছেন। বিষয় নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় রয়েছে। শিক্ষকের উপর অহেতুক চাপ প্রয়োগ করছে তারা।

 

এই ব্যপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তার শিকার শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার কলবেলাকে বলেন, মুলত আমি আমার শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো মনে করি। বিদ্যালয়ে আমি যেমন শিক্ষক সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের বাইরে তাদের সাথে সম্পর্ক টা থাকে বন্ধুসুলভ। শিক্ষার্থীরা বনভোজনে এসে আনন্দ করতে যাতে আমাদের উপস্থিতিতে সংকিত না হয় হয় সেই জন্য আমি এটা করেছি। তবে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এটা করা আমার ঠিক হয়নি।

 

তার বিরুদ্ধে কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে কিনা বা এই ব্যপারে তিনি আইনি সহযোগিতা চান কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা শিক্ষার্থী আমার সন্তানের মতো। যারাই আমাকে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করতে আমাকে বির্তকিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তারা হয়তো না বুঝে এটা করেছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যেটা স্পষ্ট, যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কাছে আমার ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার আমি মেনে নিতে পারছি না।

 

এই ঘটনার পর নগরকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভুমি মাসুম বিল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ফুলসুতি আবদুল আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সুশান্ত কুমারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। এই ব্যপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোন ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে এই ভিডিওতে আমি খারাপ কিছু পাই নাই। তিনি শিক্ষার্থীদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে এই নৃত্য করেছেন।


প্রিন্ট