রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউপির মৌরাট গ্রামে বুধবার ১০ নভেম্বর দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরহুম নজর আলী সরদার মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং আর.আর কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের দুষ্কৃতিকারীদল ১৯৭২ সালের ৯ নভেম্বর রাত ১টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারকে তার নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করে। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারের পুত্র মোহাম্মাদ আলী সরদার মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের একটানা ৩৩ বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারের অপর পুত্র শওকত আলী সরদার মৌরাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এবং পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার দুপুরে মৌরাট গ্রামের নিজ বাড়ীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারের স্মরণে আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মাদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওহাব মন্ডল, পাংশা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচত কাউন্সিলর ওদুদ সরদার, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ও মৌরাট ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার মাস্টার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌরাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শওকত আলী সরদার। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাগদুলী বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ মতিউর রহমান। স্মরণসভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজর আলী সরদারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, নজর আলী সরদার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সভাপতি হিসেবে এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদারকরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। যার কারণে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তাকে টার্গেট করেছিল এবং ১৯৭২ সালের ৯ নভেম্বর রাতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
অনুষ্ঠানে পাংশা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছোরাপ মন্ডল, সাংবাদিক মোঃ মোক্তার হোসেন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা গোলাম রসুল ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট