আব্দুল হামিদ মিঞাঃ
পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ব্যবসার গোডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দিয়াড়পাাড়া গ্রামের রাজন আলী (৩৬) |
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ঘর ভেঙে দেওয়ার পর একই উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে জানালা বিহীন সাটার লাগানো একটি টিনশেড গোডাউনের ঘরে স্ত্রী,৪ সন্তান ও মাকে নিয়ে থাকছেন রাজন আলী| ঘরের ভেতরেই রান্নাবান্না, পড়ালেখা ও ঘুমানোর ব্যবস্থা| নেই টয়লেট, নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা|
ভুক্তভোগী রাজন আলী জানান, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাই সোহেল রানার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল| দলবল নিয়ে এসে আমার বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়| বাধ্য হয়ে নিজের ব্যবসার গোডাউনে পরিবার নিয়ে উঠেছি|”

রাজন আলীর দাবি ১১৯ নম্বর (জেএল) মৌজায় দিয়াড়পাড়া গ্রামে বাড়ির দাগে আমার বাবার নামে ২২দশমিক ৫০ শতাংশ জমি আছে| (যার আরএস দাগ নম্বর-৫২৪২)| ১৮ বছর আগে বাবা মারা যান| পরে ওয়ারিশ সুত্রে ভাই-বোনদের মধ্যে মৌখিকভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়| আমারসহ অংশীদারদের নিজ নিজ জমি ভোগ দখলে রেখেছিলাম| আমার মা সহ সেই জমিতে বসবাস করে আসছি| বড় ভাই সোহেল রানা আমার ভাগের সেই সম্পত্তির উপর নির্মাণ করা ঘরবাড়ি জোরপূর্বক ভেঙে দিয়ে দখলে নেয়| গত ২৩ এপ্রিল দখলে নেওয়া সম্পত্তিতে মাটি ফেলতে শুরু করে| বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখায়|
তাঁর স্ত্রী সুরমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এই গোডাউনে খুব কষ্টে আছি| সামনে লাগানো সাটার ছাড়া জানালা নেই| বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না| আমরা আবার নিজের ঘরে ফিরতে চাই|”
স্কুলপড়ুয়া মেয়ে রাইশা আক্তার রাত্রি (নবম শ্রেণির ছাত্রী) বলেন, “গোডাউনে পড়তে খুব সমস্যা হয়| গরমে রাতে ঘুম আসে না|”
মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী রেহেনা বেওয়া জানান, ঘর ভেঙে দেওয়ার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না| খবর পেয়ে এসে দেখলাম আগের বাড়ি থেকে মালামাল এনে রাজন তার স্ত্রী-ছেলে মেয়ে নিয়ে গোডাউনে বসবাস করছে| বর্তমানে আমিও তাদের সাথে থাকছি| তার স্বামীর মত্যুর পর সম্পত্তি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মৌখিক ভাগ বাটোয়ারা হয়েছে বলে জানান|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘর ভাঙচুর করা হয়| এরপর থেকে পরিবারটি গোডাউনেই থাকছে| “ঘটনাটি দুঃখজনক| তবে ”দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে থাকার কারণে মীমাংসা করতে পারিনি| ” |
এদিকে পারিবারিক কলহের বলি হয়ে একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে না হলেও গোডাউনের অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে| দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান ও পরিবারটির পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল|
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে জিডি মূলে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে| ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও দেখছি|”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেব|
সোহেল রানার ভাষ্য, অনেক আগেই ওই জমিটি তার অপর ছোট ভাই সুজন আলীর কাছে বিক্রি করে আড়ানী বাজার এলাকায় বসবাস করছিল| পরে ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়নি|| তবে লেখা পড়া না থাকার কারণে সেই জমিতে থাকা বাড়িতে উঠে বসবাস করার চেষ্টা করছিল| ছোট ভাই সুজন আলী তার কেনা সম্পত্তিতে থাকতে দেয়নি|
প্রিন্ট

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















