নুরুল ইসলামঃ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা জুড়ে অবৈধভাবে ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটা ও বিক্রির কার্যক্রম থামছেই না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত এ কার্যক্রম চলায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক—বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন এর গজগাহ গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় পুকুর খননের আড়ালে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে মাটি ব্যবসায়ী হারুন খা-এর বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ মে) দিনব্যাপী ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গজগাহ গ্রামের নবীন শেখের পুকুর খননের কথা বলে ট্রলি গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছর একই সময়ে মাটি কাটার কারণে বৃষ্টির পর রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে এক মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু হারুন খা-ই নন, আরও অনেকেই নগরকান্দা ও পাশের সালথা উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অবৈধভাবে মাটি কাটছেন, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্য।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন খা বলেন, “মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনই আমার পেশা। জীবিকার তাগিদেই এ কাজ করি।
এদিকে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে এ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জন দুর্ভোগ কমে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 





















