নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানের সময় মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন অভিযানের সময় কাউকে মারধর করা হয়নি। অসুস্থ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরপর স্থানীয়রা তাঁদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুর করেছে। মৃত ব্যক্তির নাম আকুব্বর (৩৮)। তিনি চরপাড়া গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে। রবিাবার দুপুরের দিকে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।
আকুব্বর মোল্যার স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, ১০-১২ জন লোক হঠাৎ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ‘ডিবির লোক’ পরিচয় দিয়ে তল্লাািশ শুরুকরে। তারা ঘরে কিছু না পেয়ে একপর্যায়ে আকুব্বরকে আটক করে মারধর করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) সাহারা ইয়াসমিন জানান, পূর্বতথ্যের ভিত্তিতে ১১ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে আধা কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে আসার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবার থেকেও জানানো হয়, তিনি অসুস্থ। মানবিক কারণে আমরা হ্যান্ডকাফ খুলে দিই এবং তাঁকে রেখে বাইরে চলে আসি।
আমরা বাইরে গাড়ির কাছে থাকাকালে জানতে পারি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সাহারা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘অভিযানের পুরো ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। কোথাও তাঁকে মারধরের ঘটনা নেই। আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর হামলায় অভিযানে থাকা তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মিঠুন ব্যাপারী নামের এক সিপাহিকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদিয়া সাকিনা ঝরা জানান, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই ব্যক্তিকে (আকুব্বর) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিযানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরিচালনা করেছিল। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি মাদকের মামলা আছে।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল তৈরির বিষয়টিও প্রক্রিয়াধী।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















