ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বেলাবতে টাকা দিলেই পাস! বেলাব মডেল সরকারি স্কুলে ৪০ ফেল শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট!

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

জানা গেছে, বেলাব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জন বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন এসব শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ করে দেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ হিসেবে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অভিভাবকদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ তারা সন্তানদের একই শ্রেণিতে রাখতে আগ্রহী ছিলেন না।

 

তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও অবগত আছেন। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলেখা শারমিন অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “আমি
এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে সময় দিন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।”

 

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ ছাত্রদলে ছাত্রলীগ আতঙ্ক! গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন ‘বিতর্কিত’ মুখ?

error: Content is protected !!

বেলাবতে টাকা দিলেই পাস! বেলাব মডেল সরকারি স্কুলে ৪০ ফেল শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট!

আপডেট টাইম : ০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

জানা গেছে, বেলাব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জন বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন এসব শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ করে দেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ হিসেবে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অভিভাবকদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ তারা সন্তানদের একই শ্রেণিতে রাখতে আগ্রহী ছিলেন না।

 

তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও অবগত আছেন। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলেখা শারমিন অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “আমি
এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে সময় দিন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।”

 

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।