সুমন আলীঃ
পৃথিবীতে বিচিত্র মানুষের অভাব নেই, কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মহিষপুর গ্রামের এই যুবক যেন সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবকের পাগলামি আর দশজন থেকে একদম আলাদা। কোনো ভাঙচুর নেই, নেই কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি,কাজ হলো সারাদিন-সারারাত তার নিজ হাতে বানানো একটি ছোট্ট বিয়ারিং গাড়ি নিয়ে সমানতালে দৌড়ে চলাই যেন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনও নির্জন রাস্তায় ওই বিয়ারিং গাড়ির চাকার শব্দ পাওয়া যায়। তার ক্লান্তি নেই, নেই কোনো বিশ্রামের তাড়া।
স্থানীয়রা তাকে চেনেন এক ‘অদম্য দৌড়বিদ’ হিসেবে। প্রখর রোদ, মুষলধারে বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—কোনো কিছুই তার গতিরোধ করতে পারে না। মহিষপুর গ্রাম থেকে শুরু করে কখনো তাকে দেখা যায় নাচোল উপজেলা সদরে, আবার পরক্ষণেই তিনি পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী গোমস্তাপুর উপজেলায়। তার কাছে দিন আর রাতের তফাৎ নেই, পথের দূরত্ব যেন কোনো বাধাই নয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী,গ্রামবাসী ও পথচারীরা বলেন, “আমরা সচরাচর দেখি পাগলরা এক জায়গায় বসে থাকে বা আজেবাজে কথা বলে। কিন্তু এই ছেলেটা বিস্ময়কর! সে কেবল ছুটছে আর ছুটছে। তাকে দেখলেই মনে হয় কোনো এক অদৃশ্য গন্তব্যের দিকে সে নিরন্তর ধাবমান। যুবকের এই বিরামহীন দৌড় দেখে আমরা হতবাক। কেন তিনি এভাবে দৌড়ান, তার কোনো উত্তর আমাদের জানা নেই। শরীরের ক্লান্তি যেন তাকে স্পর্শও করে না। আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি তার এই অদ্ভুত জীবনযুদ্ধের দিকে”।
এদিকে তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, ” ওর নাম শাহিন,বয়স ৩০,প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মেছে। ৪ বছর বয়স হলেও হাটতে পারতো না।তারপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে ঔষধ খেয়ে হাঁটতে শিখেছে। শাহিন রাতে ২/৩ টার দিকে বাড়ি ফিরেন ঘুমায় না,সারারাত এক ঘর থেকে আরেক ঘর ছোটাছুটি করে,সকাল হবার আগেই বের হয়ে যায় সারাদিনের মতো”।
কেউ তাকে দেখে হাসেন, কেউবা মায়া করেন। তবে তিনি নিজের মনেই বিভোর। সাধারণ মানুষের সাথে খুব একটা কথা বলেন না, কারোর ক্ষতিও করেন না। তার এই বিরামহীন দৌড়ানোর পেছনে কোনো পুরনো স্মৃতি নাকি কেবলই মানসিক ভারসাম্যহীনতা, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই স্থানীয়দের মাঝে।
ব্যস্ত এই পৃথিবীতে সবাই যখন কোনো না কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ছুটছে, নাচোলের এই মানুষটি যেন কোনো এক অজানা গন্তব্যের নেশায় বিরামহীনভাবে টেনে চলছেন তার বিয়ারিংয়ের গাড়ী।মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এই যুবকের এমন কষ্টকর জীবন দেখে তার পরিবারসহ অনেকেই মনে করেন, সঠিক উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো এই যুবকের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আপাতত মহিষপুর ও আশেপাশের এলাকার মানুষের কাছে তিনি এক জীবন্ত বিস্ময় হয়েই রাজপথে ছুটছেন।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
সুমন আলী, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি 





















