আব্দুল হামিদ মিঞা:
রাজশাহীর বাঘায় ৭০ বছর ধরে বসবাস করা জমির হঠাৎ মালিকানা দাবি করে বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে দখলের চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামসহ তার পরিবার।
শনিবার (১১-০৪-২০২৬) উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদিপুর গ্রামের সেই বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে শরিফুল ইসলাম বলেন, বিক্রেতার কতিপয় ওয়ারিশরা অহেতুক আমার পরিবারের সাথে বিরোধে জড়িয়ে হামলা-মামলা দায়েরসহ সংবাদ মাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পূর্বপুরুষের ক্রয়কৃত জমির প্রাপ্যতা ও ন্যায় বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদিপুর মৌজায় গ্রামের জহির উদ্দীনের কাছ থেকে ৪৬ শতাংশ জমি দলিলমূলে ক্রয় করেন তাদের দাদা মনির মণ্ডল। তার মৃত্যুর পর সেই জমি ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত হয়ে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন মনির মণ্ডলের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য শামসুল হক। শামসুল হকের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে, দুই মেয়ে এবং স্ত্রী সেখানে বসবাস করছেন।
শামসুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম জানান, চাকরির সুবাদে তিনি সহ তার ভাই-বোনদের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতে হয়। গত ১৬-১২-২০২৫ তারিখে তাদের বাড়িতে না থাকার সুযোগে মিনারা বেগম, চুমকি, মেমজান বেগম, নেহেরা বেগম, শফিকুল ইসলাম শফি, আলম, মশিকুল, পলাশ, নেক আলম, সরভানু, রেহেনা, শাপলা, ইমরান আলীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে অবস্থান নেয় এবং মালামাল হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আইনের সহায়তায় তারা পুনরায় ঘরে উঠে পূর্বের ন্যায় বসবাস শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৭-০৩-২০২৬ তারিখে পূর্বের ঘটনার জের ধরে মিনারা বেগম, রেহেনা বেগম, সরবানু ও শফিকুল ইসলাম আবারও বাড়িতে প্রবেশ করে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় তারা ও পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা তাদের প্রতিরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মরহুম শামসুল হকের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও শরিফুল ইসলাম। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় সমাজপতি বাবুল ইসলাম ও শিক্ষক শাহ আলম খোকনসহ কয়েকজন জানান, ওয়ারিশসূত্রে শামসুল হক এই জমি ভোগদখল করেছেন এবং বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা ভোগ করছেন। হঠাৎ করে বিক্রেতা জহির উদ্দীনের কিছু ওয়ারিশ অযৌক্তিক দাবি তুলছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে জমি কেনার বিষয়ে কোনো অনিয়ম নেই বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















