মোঃ নুরুল ইসলাম:
সদরপুরে জ্বালানি তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় পাম্প মালিকের পালিত সন্ত্রাসীদের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। হামলার পর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাংবাদিকরা। এর প্রতিবাদে উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড ও থানা কর্তৃপক্ষের সকল সংবাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলার পাঁচটি সাংবাদিক সংগঠন।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক জরুরি প্রতিবাদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সদরপুর উপজেলায় কর্মরত সকল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সদরপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক মোহাম্মদ আলীর তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করতে যান দৈনিক আমার সংবাদ-এর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন ও জাগরণী টিভির সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। এ সময় পাম্প মালিকের নির্দেশে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডকে বিষয়টি অবগত করেন। পরদিন সকালে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
শুধু তাই নয়, থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েও থানা অভ্যন্তরে পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসী বাহিনী আবারও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এরপরও অদ্যাবধি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের আপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সদরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সদরপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিমুল তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি সাব্বির হাসান, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আবুল বাসার মিয়া, দৈনিক ভোরের ডাকের সোবাহান সৈকত, দৈনিক আমার দেশের মো. নুরুল ইসলাম, বাংলা টিভির প্রতিনিধি সাঈদুর রহমান লাবলু, দৈনিক দিনকালের প্রভাত কুমার সাহা, দৈনিক আমাদের সময়ের মো. কবির হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাবসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে—তা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের গড়িমসির প্রতিবাদে আমরা আজ থেকে উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড ও থানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংবাদ প্রচার করব না।”
হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 





















