অপি মুন্সী:
সারাদেশের মতো মাদারীপুর জেলার শিবচরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক, গাড়ি চালকসহ কৃষি কাজেও ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে।
শুক্রবার ৩রা এপ্রিল শিবচরে তিন দিন পর পাম্পগুলোতে তেল আসায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে জ্বালানি তেল, এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কৃষি কাজে জমি চাষ ও সেচ প্রদানের জন্য খেটে খাওয়া গ্রামের বয়স্ক কৃষকদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবচরের আব্দুল হাকিম খান (এ এইচ কে) ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, গাড়ি ও কৃষকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। শৃঙ্খলাভাবে লাইন ঠিক রাখার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তেল নিতে আসা কৃষক লাভলু হাওলাদার বলেন, “এখন ধানে সেচ দিতে হয়, জমি চাষ করতে হয়। ঠিকমতো যদি আমরা তেল না পাই তাহলে চাষাবাদ করবো কিভাবে?” তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি জমিতে সময়মতো বীজ বপন করতে না পারি, তাহলে খাবো কী? সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।”
মোটরসাইকেলের তেল সংগ্রহ করতে আসা মনির হোসেন বলেন, “তিন দিন পর শিবচরে তেল এসেছে। রৌদ্রের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তেল নিতে হবে—কিছু করার নাই।” তিনি বলেন, “মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেয় না। এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এত কম তেল না দিয়ে ১ হাজার টাকার দিলে ভালো হতো।”
এদিকে আব্দুল হাকিম খান (এ এইচ কে) ফিলিং স্টেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে কৃষক ও বয়স্কদের জন্য খাবার পানি ও স্যালাইন সরবরাহ করতে দেখা গেছে।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি জহিরল ইসলাম জানান, “তিন দিন পরে শিবচরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল এসেছে, এ জন্য একটু ভিড় দেখা যাচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে যাতে সবাই তেল সংগ্রহ করতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
অপি মুন্সী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 





















