ইসমাইল হোসেন বাবু:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)।
গত বুধবার ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। খাইরুল জানান, বাসের দরজা খোলা থাকায় ঝাঁকুনিতে ছিটকে পানিতে পড়ে তিনি সাঁতরে পাড়ে ওঠেন। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। খাইরুল নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বি-২ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন।
তার ভাষায়, নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পড়লেন, তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে তিনি নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মুঠোফোনটি নিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
খাইরুল ইসলাম জানান, তার আসন নম্বর ছিল বি-২। তার পাশের সিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার তিনি সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে এবং তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এ সময় হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। তবে ডাঙায় ওঠার পর এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ওই ব্যক্তি তাকে সাহায্য করছেন, কিন্তু পরে আর তাকে খুঁজে পাননি।
দুর্ঘটনার পর পাশের আসনের ওই যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলেও জানান তিনি। খাইরুল বলেন, বাসের প্রতিটি আসন যাত্রীতে পূর্ণ ছিল। প্রায় প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। অন্তত ৪০ জন নারী ও শিশু বাসের ভেতরে আটকা পড়ে।
মুঠোফোন খোয়া গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল। তার দাবি, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান শেখের মরদেহ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে যান।
গত বুধবার ২৫ মার্চ দুপুর আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী বাসটি কয়েক মিনিট দেরিতে খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে দুজন যাত্রী বাসে ওঠেন বলে জানান কাউন্টার মাস্টার। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও বি-২ আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন। তাদের একজন জীবিত ফিরেছেন। অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও এক বৃদ্ধ যাত্রীও বাসে উঠেছিলেন। ওই বৃদ্ধ এবং বি-১ আসনের যাত্রী রাজীবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে কথা বলে তিনি তা নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন এবং হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকানাধীন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বাসটি ছেড়ে আসে। এর বেশি তিনি কিছু জানেন না।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) এবং শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)-এর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















