ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসে থাকা কুষ্টিয়ার ৮ যাত্রীর পরিচয় মিলেছে

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে সৌহার্দ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে চালক-হেলপারসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন সৌহার্দ পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ।

 

বাসটি বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে শিশুসহ ৮ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় বাসটি। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পাঁচজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।

 

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাতা। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

 

বাকিরা হলেন— মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই দুই পরিবারের মধ্যে আয়েশা আক্তার, আরশান ও আয়েশা বিনতে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামান বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকায় যাওয়া-আসা করি। ছুটি শেষে সৌহার্দ পরিবহণে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যাই। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।

 

ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনো পাওয়া যায়নি।

 

সৌহার্দ পরিবহণের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী বাসে ওঠেন।

 

গিয়াস উদ্দিন রিপন আরও জানান, ৪০ সিটের বাসে চালক-হেলপারসহ মোট প্রায় ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। ৮ জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ ছাত্রদলে ছাত্রলীগ আতঙ্ক! গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন ‘বিতর্কিত’ মুখ?

error: Content is protected !!

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসে থাকা কুষ্টিয়ার ৮ যাত্রীর পরিচয় মিলেছে

আপডেট টাইম : ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে সৌহার্দ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে চালক-হেলপারসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন সৌহার্দ পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ।

 

বাসটি বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে শিশুসহ ৮ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় বাসটি। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পাঁচজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।

 

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাতা। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

 

বাকিরা হলেন— মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই দুই পরিবারের মধ্যে আয়েশা আক্তার, আরশান ও আয়েশা বিনতে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামান বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকায় যাওয়া-আসা করি। ছুটি শেষে সৌহার্দ পরিবহণে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যাই। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।

 

ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনো পাওয়া যায়নি।

 

সৌহার্দ পরিবহণের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী বাসে ওঠেন।

 

গিয়াস উদ্দিন রিপন আরও জানান, ৪০ সিটের বাসে চালক-হেলপারসহ মোট প্রায় ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। ৮ জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।