ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

ইসমাইল হোসেন বাবু:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয়র বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

 

সোমবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন—কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫), ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০) এবং লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০)।

 

এদের মধ্যে জনি, রাব্বি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা গ্রামেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে রতন তাকে মারধর করেন। পরে কাসেট বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে ছেলে মামুনকে জানালে, মামুন এসে কারণ জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয়।

 

এ সময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে একটি চড় মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

 

তবে বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন নিয়ে জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখ গ্রুপের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষিজমিতে অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করেন। অনেকের মাথায় হেলমেট এবং হাতে ঢাল, সরকি, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

 

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের হাতে, বুকে ও পায়ে ছড়রা গুলির আঘাত রয়েছে।

 

আহত জনি শেখ বলেন, বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে তারা ১০-১২ জন মসজিদে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

 

আহত রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়ারুল তার লোকজন নিয়ে গুলি চালিয়েছে। সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার শরীরে অন্তত ২২টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।

 

আলম শেখ মুঠোফোনে জানান, সকালে বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সামান্য মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের সাতজনকে গুলিবিদ্ধ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।

 

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গুলির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

এ বিষয়ে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ ছাত্রদলে ছাত্রলীগ আতঙ্ক! গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন ‘বিতর্কিত’ মুখ?

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

আপডেট টাইম : ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয়র বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

 

সোমবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন—কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫), ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০) এবং লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০)।

 

এদের মধ্যে জনি, রাব্বি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা গ্রামেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে রতন তাকে মারধর করেন। পরে কাসেট বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে ছেলে মামুনকে জানালে, মামুন এসে কারণ জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয়।

 

এ সময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে একটি চড় মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

 

তবে বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন নিয়ে জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখ গ্রুপের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষিজমিতে অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করেন। অনেকের মাথায় হেলমেট এবং হাতে ঢাল, সরকি, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

 

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের হাতে, বুকে ও পায়ে ছড়রা গুলির আঘাত রয়েছে।

 

আহত জনি শেখ বলেন, বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে তারা ১০-১২ জন মসজিদে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

 

আহত রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়ারুল তার লোকজন নিয়ে গুলি চালিয়েছে। সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার শরীরে অন্তত ২২টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।

 

আলম শেখ মুঠোফোনে জানান, সকালে বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সামান্য মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের সাতজনকে গুলিবিদ্ধ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।

 

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গুলির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

এ বিষয়ে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।