ইসমাইল হোসেন বাবু:
এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনেই বন্ধু-বান্ধবসহ আত্মীয়স্বজন সকাল থেকেই ভেড়ামারা-পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের পদ্মার দুই পাড়ে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। যুগল সৌন্দর্যের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
প্রতি বছর বর্ষবিদায় ও নতুন বছর বরণে যেমন উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, ঠিক তেমনি এবারও ঈদের দিনের শুরুতেই পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভেড়ামারা-পাকশী পদ্মার দুই পাড়ে আগত মানুষ। কেউ দেখছেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, কেউ লালন শাহ সেতু, আবার কেউ ঈদের কোলাকুলিতে মেতে উঠেছেন।
শনিবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই পদ্মার পাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে দর্শনার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে সময় কাটান। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে ১১৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও পাশের লালন শাহ সেতু দেখে মুগ্ধ হন নারী-পুরুষ।
রূপ-মাধুর্যে ভরা পাকশীর জোড়া সেতু এলাকায় ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক ভিড় বেড়েছে। নৌকায় চড়ে ভেড়ামারার পদ্মাপাড়ে মনিপার্ক ও আধ্যাত্মিক সাধক হযরত সোলাইমান শাহ চিশতী (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করেন অনেকেই।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো ঐতিহ্যবাহী পাকশী পেপার মিল, ফুরফুরা শরীফ, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়, বিবিসি বাজার এবং নতুন নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এক নজরে দেখার সুযোগ।
এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে পাবনার নগরবাড়ি থেকে আসা দর্শনার্থী মামুনুর রশিদ মামুন ও তার সন্তানরা বলেন, পদ্মা নদীর ওপর লাল রঙের হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ১১৬ বছরে পা রাখলেও এর সৌন্দর্য বিন্দুমাত্র নষ্ট হয়নি—এ কথা শুনেই তারা ঘুরতে এসেছেন এবং স্বচক্ষে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
দিনাজপুর থেকে আসা আবুল কালাম আজাদ বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জিকে সেচ প্রকল্প দেখতে এসে তিনি খুবই আনন্দিত। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ে এবং দুপুরের পর এলাকায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
খুলনা থেকে আসা পিয়াস জানান, পদ্মা নদীর ঢেউ দর্শনার্থীদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। ব্রিজের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও লালন শাহ সেতু এলাকার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পদ্মা নদীর নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে সব বয়সী নারী-পুরুষ এখানে ছুটে আসেন। পদ্মাপারের মুক্ত বাতাস আর সুউচ্চ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই পর্যটনকেন্দ্র।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















