আব্দুল হামিদ মিঞাঃ
বড় জামায়াতে নামাজ আদায় করলে প্রচুর সোয়াব পাওয়া যায়, দোয়া কবুল হয়, নেক মকছুদ পূর্ণ হয়- এমন বিশ্বাস থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে আসেন উপজেলা সদরে বাঘা মাজার ঈদগাহ মাঠে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক ও ধর্শপ্রাণ মুসলানরা ছাড়াও ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও অনেক মুসল্লি সমবেত হন রাজশাহীর ঐতিহাসিক বাঘার এই ঈদগাহ মাঠে। নামায আদায়ের জন্য আসেন নারীরাও।
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় হযরত শাহদৌলার স্মৃতি বিজড়িত এ ঈদগাহ মাঠের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে মুসল্লির সংখ্যা। দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসলিল্গরা ২/১ দিন আগে এসে উঠেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, মাজার প্রাঙ্গন,কিংবা স্কুল কলেজের বরান্দায়।
প্রাচীনকালের বহুল আলোচিত রাজশাহীর বাঘা মাজার ঈদগাহে এবারও জেলার অন্যতম বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আনুমানিক ১০/১৫ হাজার মুসল্লি জামাতে নামাজ পড়েছেন। কিন্তু এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কমিটি সুত্রে জানা গেছে,সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে পুরো মাঠ । ইমামতি করেন উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ । নামাজ শেষে মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য দোয়া করা হবে । রাজশাহী-৬(চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বাঘার এই ইদগাহে নামাজ আদায় করবেন বলে জানা গেছে।
রাজশাহী জেলা শহর থেকে ৪৮ কিঃ মিঃ পূর্ব-দক্ষিনে বাঘা উপজেলা সদরে হযরত শাহদৌলা (রহঃ)এর মাজার ও শাহী মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে এ মাঠ। প্রাচীন কাল থেকেই ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠানের উল্লেখ পাওয়া গেলেও হযরত শাহদৌলা (রহঃ) এর বাঘায় আগমনের পর প্রায় ৫শত বছর ধরে এ মাঠে ঈদের জামায়াত অনুষ্টিত হয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
বাঘা ওয়াকফ এষ্টেটের মোতয়াল্লির দেওয়া তথ্য মতে, হযরত শাহদৌলা (রহঃ) এর পুত্র হযরত শাহ আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহঃ) এর মৃত্যুর পর তাঁর তৃতীয় পুত্র মাওলানা শাহ আব্দুল ওয়াহাব (রহঃ) বাঘার খানকার দায়ীত্বভার গ্রহণ করেন। ওই সময় দিল্লির সম্রাট শাজাহানের প্রেরিত শাহী ফরমান যোগে ৪২টি মৌজা মদদ মাস স্বরূপ দান লাভ করেন (১০৩০ হিজরী)। তখন শালিমানা ছিলো ৮ হাজার টাকা। হযরত আব্দুল ওয়াহাবের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্রের মধ্যে হযরত শাহ মোহম্মদ রফিক (রহঃ) ১০২৮ হিজরী সনে ২০৩৭/আনা শালিআনার সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। এ সম্পত্তিতেই এ ঈদগাহ মাঠ।
ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বাঘার ঈদগাহে আসা মুসল্লির সংখ্যা বাড়ায়, মাঠের সম্প্রসারন করে মাঠের পশ্চিম পার্শ্বের পুকুর ভরাট করে মাঠের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার জানান,বাড়তি নিরাপত্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















