ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভারত থেকে অবাধে আসছে মাদক

ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। চাহিদাও বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুন। ব্যবসায়ীরাও হয়ে পড়েছেন বেপরোয়া।

 

মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত সবসময়ই মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের ব্যবসা হয়ে থাকে এমন অভিযোগ খোদ নির্বাচিত জন প্রতিনিধির।

 

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ বাজারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কারবার। স্থানীয় স্বপন নামে একজন মাদক ব্যবসায়ী এ মাদক ব্যবসার সাথ জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে একটি শক্তিসালী নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছেন। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রমরমা নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

দৌলতপুর ধর্মদাহ গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিন মেকার এর ছেলে স্বপন (৪০) ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকার মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা থাকলেও তিনি সবসময়ই থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ভারত থেকে পাচার করে আনা ফেনসিডিল, মদ, ইয়াবা, গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কুষ্টিয়া শহর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন তিনি। আর তার এমন মাদকের কারবার চলে ধর্মদাহ বাজারে স্বপন মেকারের গ্যারেজ নামে একটি স্থাপনায়। তবে নামে গ্যারেজ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও সেখানে কোনো মোটরসাইকেল বা অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত পরিবহনের মেরামতের কাজ হয় না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ওই গ্যারেজে দিন-রাত সন্দেহজনক বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা ও যাতায়াত করতে দেখা যায়। এদের অধিকাংশই মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে এলাকাবাসীর দাবী।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক ব্যবসায়ী জানান, ভারতের মুর্শিদাবাদ এলাকার আশরাফ আলীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মদাহ সীমান্ত দিয়ে মাদক সরবরহ করে থাকেন স্বপন। এরপর একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক এর ছেলে জাহাঙ্গীর (৪০), আলী হোসেন মালিথার ছেলে রাজু মালিথা (৪২) ও প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী সোহান (৪২) এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার ও দৌলতপুর থানার এস আই ফিরোজ অনৈতিক আর্থিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে স্বপনের মাদক ব্যবসায় সহায়তা দিয়ে থাকেন।

 

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, স্বপনর বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় সে মাদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবরণও করেছে। বরাবরই জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই-ই নয়, স্বপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নিয়মিত অভিযানে প্রায় দিনই মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় সাধারণ মানুষের মাঝে এমন বিজিবি’র অভিযান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ।

 

তবে অভিযুক্ত স্বপনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে এস আই ফিরোজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, ধর্মদাহ বাজারে স্বপন মেকার নামে গ্যারেজ থাকলেও সেখানে কোনো মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ হয় না বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তার সাথে সখ্যতা থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সোমবার দুপুরে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেছেন, দৌলতপুর উপজেলার ৪২ কি. মি সীমান্ত রয়েছে। আর এ সীমন্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনমন্ত্রীকে উল্লেখ করে তিনি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে বিজিবি ক্যাম্প বাড়ানো দাবি করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ ছাত্রদলে ছাত্রলীগ আতঙ্ক! গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন ‘বিতর্কিত’ মুখ?

error: Content is protected !!

ভারত থেকে অবাধে আসছে মাদক

ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

আপডেট টাইম : ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। চাহিদাও বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুন। ব্যবসায়ীরাও হয়ে পড়েছেন বেপরোয়া।

 

মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত সবসময়ই মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের ব্যবসা হয়ে থাকে এমন অভিযোগ খোদ নির্বাচিত জন প্রতিনিধির।

 

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ বাজারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কারবার। স্থানীয় স্বপন নামে একজন মাদক ব্যবসায়ী এ মাদক ব্যবসার সাথ জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে একটি শক্তিসালী নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছেন। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রমরমা নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

দৌলতপুর ধর্মদাহ গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিন মেকার এর ছেলে স্বপন (৪০) ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকার মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা থাকলেও তিনি সবসময়ই থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ভারত থেকে পাচার করে আনা ফেনসিডিল, মদ, ইয়াবা, গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কুষ্টিয়া শহর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন তিনি। আর তার এমন মাদকের কারবার চলে ধর্মদাহ বাজারে স্বপন মেকারের গ্যারেজ নামে একটি স্থাপনায়। তবে নামে গ্যারেজ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও সেখানে কোনো মোটরসাইকেল বা অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত পরিবহনের মেরামতের কাজ হয় না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ওই গ্যারেজে দিন-রাত সন্দেহজনক বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা ও যাতায়াত করতে দেখা যায়। এদের অধিকাংশই মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে এলাকাবাসীর দাবী।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক ব্যবসায়ী জানান, ভারতের মুর্শিদাবাদ এলাকার আশরাফ আলীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মদাহ সীমান্ত দিয়ে মাদক সরবরহ করে থাকেন স্বপন। এরপর একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক এর ছেলে জাহাঙ্গীর (৪০), আলী হোসেন মালিথার ছেলে রাজু মালিথা (৪২) ও প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী সোহান (৪২) এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার ও দৌলতপুর থানার এস আই ফিরোজ অনৈতিক আর্থিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে স্বপনের মাদক ব্যবসায় সহায়তা দিয়ে থাকেন।

 

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, স্বপনর বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় সে মাদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবরণও করেছে। বরাবরই জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই-ই নয়, স্বপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নিয়মিত অভিযানে প্রায় দিনই মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় সাধারণ মানুষের মাঝে এমন বিজিবি’র অভিযান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ।

 

তবে অভিযুক্ত স্বপনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে এস আই ফিরোজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, ধর্মদাহ বাজারে স্বপন মেকার নামে গ্যারেজ থাকলেও সেখানে কোনো মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ হয় না বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তার সাথে সখ্যতা থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সোমবার দুপুরে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেছেন, দৌলতপুর উপজেলার ৪২ কি. মি সীমান্ত রয়েছে। আর এ সীমন্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনমন্ত্রীকে উল্লেখ করে তিনি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে বিজিবি ক্যাম্প বাড়ানো দাবি করেন।