হুমায়ুন কবির তুহিনঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য আসন্ন ঈদে তেমন কোন আনন্দ নেই । সরকারি উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও জীবিকার অভাব, কাজের সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের ঈদের প্রস্তুতি প্রায় নেই বললেই চলে।
আকটের চর, শ্যামপুর,খেজুরতলা,ঢেউখালী,আবুলের মোড়,ক্বারীরহাট সহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ পরিবার দিনমজুর, ভ্যানচালক বা খণ্ডকালীন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের অভাব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে ঈদের নতুন কাপড় বা বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদরপুর নদীর পাড়ে আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দা নার্গিস বলেন, “সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু কাজ না থাকলে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে যায়। ঈদের আনন্দ করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।”
আরেক বাসিন্দা চামেলী বেগম জানান, “বাচ্চারা নতুন কাপড় চায়, কিন্তু কিনে দেওয়ার মতো টাকা নেই। ঈদ আসলেও আমাদের কাছে এটা অন্য দিনের মতোই মনে হয়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক পরিবারের সদস্যদের স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়নি। ফলে উৎসব এলেও তাদের জীবনে তেমন পরিবর্তন আসে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।তারা আরো বলেন বিগত দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে এদের জন্য তেমন কিছু করা যায়নি। আশা করছি এখন একটা কিছু করতে পারবো।
তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের পাশাপাশি যদি নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে ঈদের আনন্দও তাদের জীবনে ফিরে আসবে।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
হুমায়ুন কবির তুহিন, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি 





















