সোহাগ কাজীঃ
রক্তাক্ত সংঘাতের পর এবার আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলল মাদারীপুরের সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রাম। মঙ্গলবার সকালে এক ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার জেরে সন্ধ্যায় এলাকায় নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
খুনের ভয়াবহতা দিয়ে শুরু মঙ্গলবার সকাল ৭টা। প্রতিদিনের মতোই দিন শুরু করতে যাচ্ছিলেন আলমগীর হাওলাদার। কিন্তু দীর্ঘদিনের গ্রাম্য আধিপত্যের জেরে প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন আচমকা তার ওপর হামলে পড়ে। ঘরের ভেতর ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। বাধা দিতে গিয়ে রক্তাক্ত হন তিন নারীসহ আরও কয়েকজন।
দাফনের পরই পাল্টা আঘাত বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে আলমগীরের মরদেহ দাফন হতেই শোকের পরিবেশ ক্ষোভে রূপ নেয়। দাফন শেষ করে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা হাসান মুন্সির সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। বিশেষ করে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের ঘরসহ একের পর এক বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। চলে আসবাবপত্র ও মালামাল লুটপাটের উৎসব।
অসহায় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে , র্যাব ও পুলিশের বিশাল বহর উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত জনতার সামনে তারা ছিলেন প্রায় অসহায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে তারা।
ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান জানান: ”একসাথে অনেক জায়গায় আগুন দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক চেষ্টার পর দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি তারা ।”
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন: ”সকাল থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন দিক থেকে হঠাৎ একত্রিত হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী অগ্নিসংযোগে জড়িতদের ধরতে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কোটি টাকার সম্পদ হারানোর পাশাপাশি নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়েছেন অনেক পুরুষ সদস্য।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
সোহাগ কাজী, সদর উপজেলা (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 





















