মোঃ নুরুল ইসলাম:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে ১৬ বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমান দিপালী খাতুন। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে বিদেশ যাওয়া সেই দিপালী আর জীবিত ফিরে আসেননি। লেবাননের বৈরুতে হামলার ঘটনায় নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিপালী খাতুন লেবাননে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের ভরণ-পোষণ। সম্প্রতি বৈরুতের হামরা এলাকায় সংঘটিত হামলায় নিহত হন তিনি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে দোহার উপজেলার মৈনট হয়ে চরভদ্রাসনের আদার বাজার ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।
শুক্রবার সকালে মুন্সিরচর বাজারে দিপালীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাবার বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “পরিবারটির পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
ফরিদপুর জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী জানান, দাফন ও পরিবহন ব্যয়ের জন্য পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে আরও ৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 




















