রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:
নাটোরের লালপুরে সাইদুর রহমান (৩৫) নামের এক প্রাইভেটকার চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর গ্রামের মো. তাওহীদুল ইসলাম (২০) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে সময়ের প্রত্যাশাকে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুমিনুজ্জামান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাইস্কুল গেট সংলগ্ন সড়কের পাশে গলাকাটা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় সাদা গেঞ্জি গায়ে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
এ সময় একটি রক্তমাখা সাদা প্রাইভেটকার, রক্তমাখা একটি চাকু, মোবাইল ও কাগজপত্র উদ্ধার এবং আটক অজ্ঞাত যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাইভেটকারে থাকা কাগজপত্র ও মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ওসি মো. মুমিনুজ্জামান। তিনি বলেন, অজ্ঞাত গলাকাটা মরদেহটি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার দক্ষিণ রেলগেট এলাকার বামনপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমানের।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লালপুর-বনপাড়া সড়ক হয়ে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রীরা চাকু দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর হোসেন (৩৩) লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মো. তাওহীদুল ইসলামকে আটক করে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক তাওহীদুল ইসলাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাহেরমালি এলাকার মহিদুল ইসলামের ছেলে।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সময়ের প্রত্যাশাকে জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তাওহীদুল ইসলাম সাইদুর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, সাইদুর রহমান অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন, সেই রাগ ও ক্ষোভে তাকে হত্যা করেছেন। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (৩৬) জানান, সাইদুর রহমান ছোটবেলা থেকেই প্রাইভেটকার চালাতেন। তিনি ২০ বছর ধরে প্রাইভেটকার চালানো ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। শুরুর দিকে তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলামের গাড়ি চালাতেন। তবে দীর্ঘদিন আগে সেই পেশা ছেড়ে দিয়ে তিনি প্রাইভেটকার ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। এজন্য তিনি এলাকায় ‘ড্রাইভার ওস্তাদ’ নামে পরিচিত ছিলেন।
মাঝে মাঝে তিনি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে জানান, কুষ্টিয়া থেকে নাটোরের বনপাড়ায় এক যাত্রীকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে ফোনে আরও জানান, রাস্তা খারাপ থাকায় তিনি লালপুর-গোপালপুর হয়ে বনপাড়া যাবেন। এরপরই জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আহাজারি করে বলেন, “আমার তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কিভাবে চলবো? কি করব? কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
























