ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রানার সম্পাদক মুকুলের ২৭তম হত্যাবার্ষিকী আজ

মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর):

 

“দূর নির্বাসনে যাও” শিরোনামের কবিতায় তিনি লিখেছিলেন:

পিতা, দোহাই তোমার, আমাকে দোষ দিও না / সত্য এদেশে অবাঞ্ছিত, সত্য বললেই বিপদ / তুমিও বাঁচতে পারোনি, সত্য বলেছিলে বলেই তো… / তবুও গর্বিত, করোনি মাথা নত, অসত্যের কাছে / পশুর দাপটী রাজত্বে মনুষ্যত্ব অচল / মানুষের অবয়বে পশুরাই মূর্তিমান।

 

এই মানুষটি সমাজের যত অসংগতি, অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার ক্ষুরধার লেখনীকে অব্যাহত রেখেছিলেন। সর্বদা সোচ্চার রেখেছিলেন নিজের কলমকে।

 

তার বলিষ্ঠ লেখনি সমাজবিরোধীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বারবার ওদের আপোষ ও সমঝোতার লোভনীয় প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কলম ধরেছিলেন তিনি।

 

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মানুষটির নির্ভীক কলম চলেছে ঘুণে ধরা সমাজকে বদলে দেবার প্রত্যয়ে।

 

সৎ এবং সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এই ব্যক্তিত্ব আমৃত্যু সাধারণ মানুষের কথা বলে গেছেন, বলেছেন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা। কলমের কালিতে বারবারই তুলেছেন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের শেকড় সমূলে উৎপাটনের কথা। এই মানুষটি কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলতেন অকপটে।

 

ক্ষণজন্মা এই মানুষটি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করেননি। বরং রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসীদের কথা তিনি বারবার লিখেছেন।

 

রাজনীতিকের লেবাস ধরে থাকা এসব সন্ত্রাসী এবং তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আপোসহীন কলম চালিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংবাদিকতা জগতে সৎ, সাহসী এবং প্রতিবাদী সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

 

সৎ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ বাংলার সংবাদপত্র জগতে আলোচিত এবং অনুকরণীয় প্রবাদপুরুষে পরিণত হন। এমনকি খবরের কাগজের অঙ্গসজ্জায় আমূল পরিবর্তন এনে আধুনিকায়নও করেছিলেন তিনি।

 

কেবলমাত্র খবর প্রকাশই নয়, নান্দনিকতার সাথে তা পাঠকের কাছে উপস্থাপন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা উপহার দিতে তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর ও প্রবাদপ্রতিম।

 

তার হাতে গড়া অনেক সাংবাদিক যশোর ছাড়াও রাজধানী ঢাকার প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের ডেস্ক এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কর্মরত আছেন।

 

সাহসী সাংবাদিকতার এই উজ্জ্বল মহিরুহ হলেন সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুল।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করা আর এম সাইফুল আলম মুকুল ছিলেন দক্ষিণ বাংলার গণমানুষের আস্থার মুখপত্র যশোর থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় ‘দৈনিক রানার’ পত্রিকার সম্পাদক। তৎকালীন সময়ে ‘দৈনিক রানার’-এর প্রকাশক ছিলেন মুকুলের মা রাবেয়া খাতুন।

 

সততা আর নিষ্ঠার খেসারত স্বরূপ সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুলকে প্রাণ হারাতে হয়।

 

১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে যশোর শহর থেকে বেজপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে ফেরার পথে চারখাম্বার মোড় চিরুনি কলের নিকটে ‘রানার’ সম্পাদক মুকুলকে বোমা ও বুলেটের আঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

 

মুকুল প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করে যান—অর্থ, প্রতিপত্তি, অন্যায়ের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে অর্থ উপার্জনের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

 

অকুতোভয় সাংবাদিক সাইফুল আলম মুকুলের ২৭তম হত্যাবার্ষিকী আজ, ৩০ আগস্ট।

 

হত্যার ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নানা জটিলতায় বিচারপ্রক্রিয়া আজও ঝুলে আছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় হাইকোর্ট ঘুরে মামলাটি বিচারিক আদালতে এলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার কাজ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটার গিটহাবে হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ, ১৫০০ ব্যক্তির তথ্য ফাঁস

error: Content is protected !!

রানার সম্পাদক মুকুলের ২৭তম হত্যাবার্ষিকী আজ

আপডেট টাইম : ০১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
মোঃ নূর-ই-আলম (কাজী নূর), যশোর জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর):

 

“দূর নির্বাসনে যাও” শিরোনামের কবিতায় তিনি লিখেছিলেন:

পিতা, দোহাই তোমার, আমাকে দোষ দিও না / সত্য এদেশে অবাঞ্ছিত, সত্য বললেই বিপদ / তুমিও বাঁচতে পারোনি, সত্য বলেছিলে বলেই তো… / তবুও গর্বিত, করোনি মাথা নত, অসত্যের কাছে / পশুর দাপটী রাজত্বে মনুষ্যত্ব অচল / মানুষের অবয়বে পশুরাই মূর্তিমান।

 

এই মানুষটি সমাজের যত অসংগতি, অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার ক্ষুরধার লেখনীকে অব্যাহত রেখেছিলেন। সর্বদা সোচ্চার রেখেছিলেন নিজের কলমকে।

 

তার বলিষ্ঠ লেখনি সমাজবিরোধীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বারবার ওদের আপোষ ও সমঝোতার লোভনীয় প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কলম ধরেছিলেন তিনি।

 

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মানুষটির নির্ভীক কলম চলেছে ঘুণে ধরা সমাজকে বদলে দেবার প্রত্যয়ে।

 

সৎ এবং সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এই ব্যক্তিত্ব আমৃত্যু সাধারণ মানুষের কথা বলে গেছেন, বলেছেন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা। কলমের কালিতে বারবারই তুলেছেন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের শেকড় সমূলে উৎপাটনের কথা। এই মানুষটি কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলতেন অকপটে।

 

ক্ষণজন্মা এই মানুষটি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করেননি। বরং রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসীদের কথা তিনি বারবার লিখেছেন।

 

রাজনীতিকের লেবাস ধরে থাকা এসব সন্ত্রাসী এবং তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আপোসহীন কলম চালিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংবাদিকতা জগতে সৎ, সাহসী এবং প্রতিবাদী সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

 

সৎ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ বাংলার সংবাদপত্র জগতে আলোচিত এবং অনুকরণীয় প্রবাদপুরুষে পরিণত হন। এমনকি খবরের কাগজের অঙ্গসজ্জায় আমূল পরিবর্তন এনে আধুনিকায়নও করেছিলেন তিনি।

 

কেবলমাত্র খবর প্রকাশই নয়, নান্দনিকতার সাথে তা পাঠকের কাছে উপস্থাপন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা উপহার দিতে তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর ও প্রবাদপ্রতিম।

 

তার হাতে গড়া অনেক সাংবাদিক যশোর ছাড়াও রাজধানী ঢাকার প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের ডেস্ক এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কর্মরত আছেন।

 

সাহসী সাংবাদিকতার এই উজ্জ্বল মহিরুহ হলেন সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুল।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করা আর এম সাইফুল আলম মুকুল ছিলেন দক্ষিণ বাংলার গণমানুষের আস্থার মুখপত্র যশোর থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় ‘দৈনিক রানার’ পত্রিকার সম্পাদক। তৎকালীন সময়ে ‘দৈনিক রানার’-এর প্রকাশক ছিলেন মুকুলের মা রাবেয়া খাতুন।

 

সততা আর নিষ্ঠার খেসারত স্বরূপ সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুলকে প্রাণ হারাতে হয়।

 

১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে যশোর শহর থেকে বেজপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে ফেরার পথে চারখাম্বার মোড় চিরুনি কলের নিকটে ‘রানার’ সম্পাদক মুকুলকে বোমা ও বুলেটের আঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

 

মুকুল প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করে যান—অর্থ, প্রতিপত্তি, অন্যায়ের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে অর্থ উপার্জনের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

 

অকুতোভয় সাংবাদিক সাইফুল আলম মুকুলের ২৭তম হত্যাবার্ষিকী আজ, ৩০ আগস্ট।

 

হত্যার ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নানা জটিলতায় বিচারপ্রক্রিয়া আজও ঝুলে আছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় হাইকোর্ট ঘুরে মামলাটি বিচারিক আদালতে এলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার কাজ।