আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি সংসদীয় আসনে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিনকে নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী অপপ্রচার শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।তৃণমুলের ভাষ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দিনের নামে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে তার পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ ব্যক্তি ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে। এনিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। কিন্ত্ত নানা কুটকৌশল ও ষড়যন্ত্র করেও তৃণমুলের কাছে কোনো সাড়া না পেয়ে শরিফবিরোধী শিবির রণেভঙ্গ দিয়েছে।
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ডাকমন্ত্রী অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব প্রয়াত ব্যারিষ্টার আমিনুল হক পরিবারের কোনো বিকল্প নাই। বংশপরম্পরায় তাদের একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।ফলে এখানে ব্যারিষ্টার আমিনুল হক পরিবারের বিকল্প বিএনপি বিরোধীরাও কখানো কল্পনা করে না। কিন্ত্ত হঠাৎ বিএনপি কতিপয় ব্যক্তি বগী আওয়াজ দিয়ে ব্যারিষ্টার পরিবারের বিকল্প হবার দিবাস্বপ্নে বিভোর ? অথচ গত ১৭ বছর তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের অর্থের যোগান দাতা ও সাবেক মেয়র লিটনের ঘনিষ্ঠ সহচর।
জানা গেছে, মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার (সাবেক) সামরিক সচিব এবং চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হয়েছেন। একজন মানুষের প্রতি কতটা বিশ্বাস ও আস্থা থাকলেই কেবল এমন সম্মানিত জায়গায় রাখা হয়, সেটার গভীরতা অনুধাবন করার ক্ষমতা বা জ্ঞান নাই একশ্রেণীর রাজনৈতিক অর্বাচীনদের। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও দুবারের বিরোধী দলীয় নেতা। ফলে বিশ্বমানের একজন নেতা যে মানুষটাকে এমন সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানিত মানুষটাকে নিয়ে যারা অপপ্রচার করছে তারা রাজনৈতিক বেকুব ও বোকার স্বর্গে বাস করছে বলে অভিমত অভিজ্ঞ মহলের। কারণ অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী সকলে মিলে কি একজন মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন সৃষ্টি করতে পারবেন।কিন্ত্ত মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন চাইলে অপপ্রচারকারীদের মতো শত শত নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারেন।অথচ এই সাধারণ বিষয়টি বোঝার ক্ষমতা যাদের নাই তারা আবার কিসের নেতা ?
এদিকে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী একটি বিশেষ গোষ্ঠী গুজব ছড়াচ্ছে শরিফ উদ্দিন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তিনি কোনো ভাবেই দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন চিপা-চাপা ও অলিগলিতে এমন গুজব ছড়িয়ে শরিফবিরোধী গোষ্ঠী তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। কিন্ত্ত রাজনীতির মাঠে নামতে গিয়ে দেখছে ভিন্নচিত্র, এতে তাদের হুঁশ ফিরেছে,বগী আওয়াজ আর রাজনীতি এক বিষয় নয় এটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।বিতর্কিত সেই গোষ্ঠী অর্থের বিনিময়ে দলছুট কিছু বগী নেতাকে পক্ষে নিয়ে এমপি হবার খোয়াব দেখে ভোটের মাঠে একটি মোহের সৃষ্টি করেছিল। কিন্ত্ত মোহ আর বাস্তব এক নয় সেটা মাঠে নামার পর তারা বুঝতে পেরেছে। শরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র, গুজব, প্রোপাগান্ডা ও অপতৎপরতা করেও তৃণমূলের কাছে থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শরিফ বিরোধী শিবির রণেভঙ্গ দিয়ে লেজ গুটিয়েছে। এতে শরিফবিরোধী শিবিরে নেমে এসেছে অমবশ্যার ঘোর অন্ধকার চোখেমূখে ফুটে উঠেছে হতাশার করুণ চিত্র। আবার কেউ টাকা ছড়িয়ে টাকার শোকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তৃণমুলের তোপের মুখে এখন তারা না পারছেন শরিফ উদ্দিনের কাছে আসতে, না পারছেন রাজনীতির মাঠে নামতে “শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় পড়ে রাজনীতি থেকে ঝরতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক আদর্শ, নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে শরিফ বিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র, অপতৎপরতা ও সংগঠন বিরোধী নানা কর্মকান্ড করেও শরিফ উদ্দিনের জনসমর্থনের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে শরিফ উদ্দিন কেনো মনোনয়ন পাবেন না, আর তাদের কেউ কেনো মনোনয়ন পাবেন তার কোনো ব্যাক্ষা তাদের কাছে নাই।
তানোর-গোদাগাড়ীর ৪টি পৌরসভা এবং ১৬টি ইউনিয়নের (ইউপি) প্রতিটি ওয়ার্ডের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শরিফ উদ্দিনকে নিয়ে মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। অথচ শরিফ উদ্দিন মনোনয়ন পাবেন না, মনোনয়ন পাবেন কারা যারা শরৎকালের আকাশের সুর্যের মতো বিভিন্ন চিপা-চাপি ও অলিগলি থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে ? এমনকি যারা দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পাশে থেকে টাকার কুমির হয়েছে তারা ? শরিফ
উদ্দিনবিরোধী অপরাজনীতির কারণে তৃণমূল তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, এতে শরিফ উদ্দিনের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছে, এসব অপরাজনীতি বন্ধ না হলে নেতাকর্মীদের কাছে তাদের গণধাওয়া খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষেরা বলছে, যাদের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হবার মতো জনসমর্থন নাই, তাঁরা যদি এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন সেটা দিবা স্বপ্ন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমুলের একাধিক নেতা বলেন,একটি গোষ্ঠী বিশেষ মহলের কাছে থেকে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে একটাই যেকোনো মূল্য শরিফ উদ্দিনকে ঠেকানো। কিন্ত্ত মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন তাদের সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতি উপেক্ষা করে তৃণমূলের সঙ্গে জন-সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বিএনপির ৩১ দফার চিত্র তুলে ধরে ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়তে অবিরাম ছুটে চলেছেন।
এদিকে অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য,বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন তারাই চাইতে পারেন যাদের সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতার পাশাপাশি সাংগঠনিক পদ পদবী রয়েছে, আছে গ্রহণযোগ্যতা, জনসমর্থন ও কর্মী বাহিনী।কারণ টাকা থাকলেই যদি বিএনপির মতো দলের মনোনয়ন পাওয়া যায় তাহলে কেউ আর রাজনীতি করবে না টাকার পিছনেই ছুটবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান বলেন, রাজশাহী-১ আসনে অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব প্রয়াত ব্যারিষ্টার আমিনুল হক পরিবারের কোনো বিকল্প নাই। তিনি বলেন, আমাদের নেতা মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন এখানে মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত।তিনি বলেন,কে কি বললো বা কে কি করলো এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই, তাদের টার্গেট একটাই তা হলো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে তাদের নেতার বিজয় নিশ্চিত করা।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাষ্টার বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, আমাদের নেতা মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন এখানে মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত এটা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই। তিনি বলেন, তবে আওয়ামী মদদপুষ্ট কিছু মানুষ তাদেরই বি-টিম হয়ে বিভিন্ন কৌশলে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে,তবে তাদের মনোবাসনা কখানোই পুরুণ হবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















