ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাজশাহীতে রোজার শুরুতেই বাজারে আগুন

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কাঁচাবাজারে আগুন হঠাৎ লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে চারগুণ। মাত্র দিনের ব্যবধানে ২০–২৫ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৮০–১০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া ও মুন্ডুমালা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। লেবু কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।

খেজুর ও শসার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

শুধু লেবুই নয়, গত সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজি প্রতি ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সবচেয়ে কম দামের ‘প্রেম’ খেজুর আগে ২২০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৩০০ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের খেজুর, যা কয়েকদিন আগেও ৪০০–৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০–৫৩০ টাকায়। মরিয়ম খেজুরের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার টাকা কেজি। ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

শসার দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪-৫০ টাকা। সবজির বাজারেও চাপ; সবজির দামও ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে-বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি,কাঁচা মরিচ দুশ’ টাকা,
টমেটো ৮০ টাকা,লাউ ৪০-৫০ টাকা, নতুন করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পালং শাক ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা মমিন বলেন, “রমজান এলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দুইদিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৮০ টাকা।”আরেক ক্রেতা ময়েন আলী বলেন, “রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই।”

বিক্রেতাদের দাবি লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয় মূল্যের রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক আশরাফুল

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে রোজার শুরুতেই বাজারে আগুন

আপডেট টাইম : ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কাঁচাবাজারে আগুন হঠাৎ লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে চারগুণ। মাত্র দিনের ব্যবধানে ২০–২৫ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৮০–১০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া ও মুন্ডুমালা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। লেবু কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।

খেজুর ও শসার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

শুধু লেবুই নয়, গত সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজি প্রতি ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সবচেয়ে কম দামের ‘প্রেম’ খেজুর আগে ২২০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৩০০ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের খেজুর, যা কয়েকদিন আগেও ৪০০–৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০–৫৩০ টাকায়। মরিয়ম খেজুরের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার টাকা কেজি। ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

শসার দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪-৫০ টাকা। সবজির বাজারেও চাপ; সবজির দামও ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে-বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি,কাঁচা মরিচ দুশ’ টাকা,
টমেটো ৮০ টাকা,লাউ ৪০-৫০ টাকা, নতুন করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পালং শাক ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা মমিন বলেন, “রমজান এলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দুইদিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৮০ টাকা।”আরেক ক্রেতা ময়েন আলী বলেন, “রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই।”

বিক্রেতাদের দাবি লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয় মূল্যের রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।