ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাজশাহীতে বাড়ছে পেঁয়াজ বীজ চাষ

রাজশাহীতে ভালো দাম ও লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পেঁয়াজ কদম (বীজ) চাষ। রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের চাষ বেড়েছে প্রায় ১২ হেক্টর। পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে ঝুঁকছে চাষিরা। বাজারে তুলনামূলকভাবে বীজের দাম বেশি থাকে। গতবছর পেঁয়াজের বীজ বাজারে বিক্রি হয়েছে এক হাজার দুশ’ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় এবার ২৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করা হয়েছে। এখান থেকে প্রায় দুশ’ মেট্রিক টনের বেশি বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।  গত বছর পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছিল প্রায় ২৫৮ হেক্টর জমিতে। এসব উৎপাদিত বীজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায়ও সরবরাহ করা যাবে।

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি পেঁয়াজের (কদম) বীজ চাষ হয়েছে দুর্গাপুর উপজেলায়। এই উপজেলায় পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও জেলার গোদাগাড়ীতে ৮৫ হেক্টর, পুঠিয়া উপজেলায় ৭০ হেক্টর, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছে ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে। মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের (ইউপি) কইকুড়ি এলাকায় ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন কলিম খাঁ। তিনি বলেন, এবছর পেঁয়াজের (কদম) রোগ বালায় দেখা দিয়েছে। ঘনঘন কিটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। পেঁয়াজের ফুলকা শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ফলন নিয়ে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বৈশাখ মাসে শীলাবৃষ্টি নিয়ে। শীলা বৃষ্টিপাত হলে পেঁয়াজের কদম নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই পেঁয়াজের কদম জমিতে থাকবে চার মাস।

 

এছাড়া যখন জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছিল তখন তিনি বীজ পেঁয়াজ কিনেছিলেন চার হাজার টাকা মণ দরে। গত বছরও তিনি পেঁয়াজ কদমের চাষ করেছিলেন। তিনি পেঁয়াজের কদম থেকে আহরণ করা বীজ বিক্রি করেছিলেন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা দরে। দুর্গাপুর উপজেলার জমির উদ্দিন চাষ করেছিলেন পেঁয়াজের বীজ। গতবছর এক বিঘা জমিতে চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন তিনি। তাই এ বছর দেড় বিঘা জমিতে করেছেন পেঁয়াজ বীজের চাষ। তিনি বলেন, গত বছর বীজ বিক্রি করে লাভ হয়েছিল ৮৫ হাজার টাকা। তাই এবছর নিজের ও লিজ নেওয়া জমিতে চাষ করেছেন পেঁয়াজ বীজ। এক বিঘা জমিতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৫৮ হাজার টাকা। এই ফসলের পরিবচর্যা বেশি লাগে। পরিচর্যার অভাব হলে ফলন কমে যাবে। সময় মত কিটনাশক দিতে হবে।

 

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, পেঁয়াজের ফুলকে সবাই কদম বলে থাকে। এই কদম থেকে পেঁয়াজের বীজ হয়। গত বছর বেশ ভালো দাম পেয়েছিল চাষীরা। তাই এই বছর বেড়েছে পেঁয়াজ বীজের চাষ। পেঁয়াজের বীজ চাষে মৌমাছির পরাগায়ন নিয়ে নতুন চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সাদা কাপড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটানোর কথা বলেছি। এতে বীজ ভালো মানের ও বেশি ফসল উৎপাদন হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে বাড়ছে পেঁয়াজ বীজ চাষ

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

রাজশাহীতে ভালো দাম ও লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পেঁয়াজ কদম (বীজ) চাষ। রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের চাষ বেড়েছে প্রায় ১২ হেক্টর। পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে ঝুঁকছে চাষিরা। বাজারে তুলনামূলকভাবে বীজের দাম বেশি থাকে। গতবছর পেঁয়াজের বীজ বাজারে বিক্রি হয়েছে এক হাজার দুশ’ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় এবার ২৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করা হয়েছে। এখান থেকে প্রায় দুশ’ মেট্রিক টনের বেশি বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।  গত বছর পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছিল প্রায় ২৫৮ হেক্টর জমিতে। এসব উৎপাদিত বীজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায়ও সরবরাহ করা যাবে।

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি পেঁয়াজের (কদম) বীজ চাষ হয়েছে দুর্গাপুর উপজেলায়। এই উপজেলায় পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও জেলার গোদাগাড়ীতে ৮৫ হেক্টর, পুঠিয়া উপজেলায় ৭০ হেক্টর, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছে ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে। মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের (ইউপি) কইকুড়ি এলাকায় ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন কলিম খাঁ। তিনি বলেন, এবছর পেঁয়াজের (কদম) রোগ বালায় দেখা দিয়েছে। ঘনঘন কিটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। পেঁয়াজের ফুলকা শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ফলন নিয়ে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বৈশাখ মাসে শীলাবৃষ্টি নিয়ে। শীলা বৃষ্টিপাত হলে পেঁয়াজের কদম নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই পেঁয়াজের কদম জমিতে থাকবে চার মাস।

 

এছাড়া যখন জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছিল তখন তিনি বীজ পেঁয়াজ কিনেছিলেন চার হাজার টাকা মণ দরে। গত বছরও তিনি পেঁয়াজ কদমের চাষ করেছিলেন। তিনি পেঁয়াজের কদম থেকে আহরণ করা বীজ বিক্রি করেছিলেন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা দরে। দুর্গাপুর উপজেলার জমির উদ্দিন চাষ করেছিলেন পেঁয়াজের বীজ। গতবছর এক বিঘা জমিতে চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন তিনি। তাই এ বছর দেড় বিঘা জমিতে করেছেন পেঁয়াজ বীজের চাষ। তিনি বলেন, গত বছর বীজ বিক্রি করে লাভ হয়েছিল ৮৫ হাজার টাকা। তাই এবছর নিজের ও লিজ নেওয়া জমিতে চাষ করেছেন পেঁয়াজ বীজ। এক বিঘা জমিতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৫৮ হাজার টাকা। এই ফসলের পরিবচর্যা বেশি লাগে। পরিচর্যার অভাব হলে ফলন কমে যাবে। সময় মত কিটনাশক দিতে হবে।

 

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, পেঁয়াজের ফুলকে সবাই কদম বলে থাকে। এই কদম থেকে পেঁয়াজের বীজ হয়। গত বছর বেশ ভালো দাম পেয়েছিল চাষীরা। তাই এই বছর বেড়েছে পেঁয়াজ বীজের চাষ। পেঁয়াজের বীজ চাষে মৌমাছির পরাগায়ন নিয়ে নতুন চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সাদা কাপড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটানোর কথা বলেছি। এতে বীজ ভালো মানের ও বেশি ফসল উৎপাদন হবে।