ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাজশাহীতে দিন দিন বাড়ছে বিদেশী ফল আঙ্গুর চাষ

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী): রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বিদেশী ফল আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে আঙুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউটিউবে বিভিন্ন সাফল্যের গল্প দেখে অনেক কৃষক যথাযথ চাষপদ্ধতি না জেনেই আঙুর চাষে বিনিয়োগ করেছেন। ভালো জাতের সন্ধান না পেয়ে কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাবে অনেকেই আবার মাঝপথে থেমে গেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা কৃষি বিভাগের কার্যকর সহযোগিতা পাননি। ফলে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অন্যের পরামর্শের ওপর নির্ভর করেই এগিয়েছেন। এতে কার্যত জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন জাতের আঙুর চাষের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগ এটাকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জেলার মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা নিজেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাচায় তরমুজ চাষ, চুইঝাল, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পরামর্শ, চাষ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তার প্রচেষ্টা ও কারিগরি সহযোগিতায় কৃষকেরা আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এক বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয় এবং এক বিঘা জমিতে লাভ হয় কমপক্ষে দুই লাখ টাকা। মোহনপুর উপজেলায় দুই দশমিক পঞ্চাশ বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের (ইউপি) টেমা গ্রামের কৃষক সানাউল এক বিঘা, ঘাসিগ্রাম ইউপির কৃষক ইয়াহিয়া ১০ কাঠা, বাকশিমইল ইউপির ভাতুড়িয়া গ্রামের কৃষক আরিফ ও কেশরহাট এলাকার আফসার আলী আঙ্গুর চাষ শুরু করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকার কৃষক মনিরুজ্জামানের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরে এক বিঘা জমিতে ১০০টি আঙুরের চারা লাগান। কিন্তু ডাল ছাঁটাইয়ের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় প্রথম বছর ভালো ফুলই আসেনি। পরের বছর নিয়ম মেনে পরিচর্যা করেন। প্রতিটি গাছে অন্তত আট কেজি করে ফলও আসে। কিন্তু ফল পাকার আগেই ঝড়ে মাচা ভেঙে পড়ে। পরে পাখির আক্রমণে বাকি আঙুরও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুই বছরে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় করেও কোনো আয় করতে পারেননি। তাঁর অভিমत, ‘সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে দেশের আবহাওয়া উপযোগী জাত ও চাষপদ্ধতি জানতে পারলে আঙুর নিয়ে কৃষকের এই দুর্ভোগ হতো না।’ তিনি বিশ্বাস করেন, দেশে মিষ্টি জাতের আঙুর চাষ করা সম্ভব। তবে এই করতে করতে সারা দেশই গবেষণার মাঠ হয়ে যাবে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কৃষক ইমাম হাসান সাগরও এক বছরের মধ্যেই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এক বছরে চারা বিক্রি করেছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকার। আর আঙুর বিক্রি করেছেন ১০ লাখ টাকার। অবশ্য তাঁর ভাষায়, অর্ধেক আঙুর মানুষকে খেতে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে আঙুরের চাষ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের আঙুর চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি পরামর্শ, কারিগরি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে দিন দিন বাড়ছে বিদেশী ফল আঙ্গুর চাষ

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী): রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বিদেশী ফল আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে আঙুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউটিউবে বিভিন্ন সাফল্যের গল্প দেখে অনেক কৃষক যথাযথ চাষপদ্ধতি না জেনেই আঙুর চাষে বিনিয়োগ করেছেন। ভালো জাতের সন্ধান না পেয়ে কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাবে অনেকেই আবার মাঝপথে থেমে গেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা কৃষি বিভাগের কার্যকর সহযোগিতা পাননি। ফলে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অন্যের পরামর্শের ওপর নির্ভর করেই এগিয়েছেন। এতে কার্যত জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন জাতের আঙুর চাষের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। কৃষি বিভাগ এটাকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জেলার মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা নিজেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাচায় তরমুজ চাষ, চুইঝাল, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পরামর্শ, চাষ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তার প্রচেষ্টা ও কারিগরি সহযোগিতায় কৃষকেরা আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এক বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয় এবং এক বিঘা জমিতে লাভ হয় কমপক্ষে দুই লাখ টাকা। মোহনপুর উপজেলায় দুই দশমিক পঞ্চাশ বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের (ইউপি) টেমা গ্রামের কৃষক সানাউল এক বিঘা, ঘাসিগ্রাম ইউপির কৃষক ইয়াহিয়া ১০ কাঠা, বাকশিমইল ইউপির ভাতুড়িয়া গ্রামের কৃষক আরিফ ও কেশরহাট এলাকার আফসার আলী আঙ্গুর চাষ শুরু করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকার কৃষক মনিরুজ্জামানের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরে এক বিঘা জমিতে ১০০টি আঙুরের চারা লাগান। কিন্তু ডাল ছাঁটাইয়ের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় প্রথম বছর ভালো ফুলই আসেনি। পরের বছর নিয়ম মেনে পরিচর্যা করেন। প্রতিটি গাছে অন্তত আট কেজি করে ফলও আসে। কিন্তু ফল পাকার আগেই ঝড়ে মাচা ভেঙে পড়ে। পরে পাখির আক্রমণে বাকি আঙুরও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুই বছরে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় করেও কোনো আয় করতে পারেননি। তাঁর অভিমत, ‘সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে দেশের আবহাওয়া উপযোগী জাত ও চাষপদ্ধতি জানতে পারলে আঙুর নিয়ে কৃষকের এই দুর্ভোগ হতো না।’ তিনি বিশ্বাস করেন, দেশে মিষ্টি জাতের আঙুর চাষ করা সম্ভব। তবে এই করতে করতে সারা দেশই গবেষণার মাঠ হয়ে যাবে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কৃষক ইমাম হাসান সাগরও এক বছরের মধ্যেই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এক বছরে চারা বিক্রি করেছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকার। আর আঙুর বিক্রি করেছেন ১০ লাখ টাকার। অবশ্য তাঁর ভাষায়, অর্ধেক আঙুর মানুষকে খেতে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে আঙুরের চাষ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের আঙুর চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি পরামর্শ, কারিগরি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।