ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাজশাহীতে এক’ই পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা, পাশেই লিখা চিরকুট

মনোয়ার হোসেনঃ

 

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতরা হলেন: মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) এবং মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

 

চিরকুটে লেখা হয়েছে,আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম এই কারণে যে, আমি একা যদি মরে যাই তাহলে আমার বউ, ছেলে, মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো।

 

এতে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমার জন্যে কাওকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য মানুষের কাছে অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চির দিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভাল থাকবেন।

 

নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক বলেন, মিনারুল কৃষিকাজ করতেন এবং তার ঋণ ছিল বলে জানা গেছে। তারা মাটির ঘরে বসবাস করতেন। চারজনের মধ্যে উত্তরের ঘরে পাওয়া গেছে মা ও মেয়ের মরদেহ, আর দক্ষিণের ঘরে বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ছেলের মরদেহ পাওয়া যায়। চঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

রাজশাহী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এর সাথে সিআইডি, সিবিআই, ডিবি সহ ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা আসেন তারা দেখছেন, এবং কিছু ফিংগার প্রিন্ট রয়েছে ও চিরকুট রয়েছে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বোঝা যাবে মৃত্যুর সত্যতা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

 

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, মানসিক হতাশাগ্রস্থ ও ঋণের জন্য এই ঘটনা ঘটতে পারে। এরই মধ্যে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মরাদেহগুলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যাকারী ও নিজে আত্মহত্যাকারী মিনারুলের তার পিতাকে সব মৃতদেহের সৎকারে টাকা ব্যয় না করতে বলে চিরকুট লিখে যান। এলাকাবাসীদের অনেকে তার সূত্র ধরে বলেছে মিনারুল ও তার পিতার দায়িত্ব কর্তব্য পালনে ইসলামের জ্ঞান ছিলনা তাই একই পরিবার ‘র ৪ জনের এ মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এমন ব্যাটিং করে কী আর ফাইনালে যাওয়া যায়

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে এক’ই পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা, পাশেই লিখা চিরকুট

আপডেট টাইম : ০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

মনোয়ার হোসেনঃ

 

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতরা হলেন: মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) এবং মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

 

চিরকুটে লেখা হয়েছে,আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম এই কারণে যে, আমি একা যদি মরে যাই তাহলে আমার বউ, ছেলে, মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো।

 

এতে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমার জন্যে কাওকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য মানুষের কাছে অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চির দিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভাল থাকবেন।

 

নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক বলেন, মিনারুল কৃষিকাজ করতেন এবং তার ঋণ ছিল বলে জানা গেছে। তারা মাটির ঘরে বসবাস করতেন। চারজনের মধ্যে উত্তরের ঘরে পাওয়া গেছে মা ও মেয়ের মরদেহ, আর দক্ষিণের ঘরে বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ছেলের মরদেহ পাওয়া যায়। চঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

রাজশাহী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এর সাথে সিআইডি, সিবিআই, ডিবি সহ ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা আসেন তারা দেখছেন, এবং কিছু ফিংগার প্রিন্ট রয়েছে ও চিরকুট রয়েছে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বোঝা যাবে মৃত্যুর সত্যতা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

 

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, মানসিক হতাশাগ্রস্থ ও ঋণের জন্য এই ঘটনা ঘটতে পারে। এরই মধ্যে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মরাদেহগুলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যাকারী ও নিজে আত্মহত্যাকারী মিনারুলের তার পিতাকে সব মৃতদেহের সৎকারে টাকা ব্যয় না করতে বলে চিরকুট লিখে যান। এলাকাবাসীদের অনেকে তার সূত্র ধরে বলেছে মিনারুল ও তার পিতার দায়িত্ব কর্তব্য পালনে ইসলামের জ্ঞান ছিলনা তাই একই পরিবার ‘র ৪ জনের এ মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।