ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ

রমজানের শুরুতেই শিবচরে সবজির বাজার চওড়া

অপি মুন্সী:

 

রমজানের শুরুতেই মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এর মধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে মুরগির দাম। বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, রসুনসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও বাড়তি। তবে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

 

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মিলাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

 

ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর দাম বাড়ানোর প্রবণতা এবারও দৃশ্যমান। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার দাবি তাঁদের। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

 

বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি বাজার করছেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

 

শিবচর পৌর সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩৫-৪০ টাকা হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

 

এদিকে পেঁয়াজের খুচরা দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। আদার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

 

বাজার করতে আসা বিলকিস বেগম বলেন, ‘রোজার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে এসেছি। মুরগির দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। বেগুন, কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় পরিমাণে কম করে নিতে হচ্ছে।’

 

আরেক ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রোজার শুরুতেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে। কারণ খরচ বাড়ছে, আয় তো বাড়ছে না।’

 

পৌর কাঁচাবাজারের আড়তদার আক্তার হোসেন বলেন, ‘রোজার সময় এলে কিছু পণ্য শেষ হয়ে যায়, আবার কিছু পণ্য নতুন আসে। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই। সামনে দাম আরও বাড়বে কিনা সেটি আমদানির ওপর নির্ভর করবে।’

 

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, ‘বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং চলছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পানি কমলেও বাড়ছে পদ্মার ভাঙন, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের পোল

error: Content is protected !!

ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ

রমজানের শুরুতেই শিবচরে সবজির বাজার চওড়া

আপডেট টাইম : ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অপি মুন্সী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি :

অপি মুন্সী:

 

রমজানের শুরুতেই মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এর মধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে মুরগির দাম। বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, রসুনসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও বাড়তি। তবে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

 

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মিলাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

 

ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর দাম বাড়ানোর প্রবণতা এবারও দৃশ্যমান। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার দাবি তাঁদের। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

 

বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি বাজার করছেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

 

শিবচর পৌর সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩৫-৪০ টাকা হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

 

এদিকে পেঁয়াজের খুচরা দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। আদার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

 

বাজার করতে আসা বিলকিস বেগম বলেন, ‘রোজার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে এসেছি। মুরগির দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। বেগুন, কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় পরিমাণে কম করে নিতে হচ্ছে।’

 

আরেক ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রোজার শুরুতেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে। কারণ খরচ বাড়ছে, আয় তো বাড়ছে না।’

 

পৌর কাঁচাবাজারের আড়তদার আক্তার হোসেন বলেন, ‘রোজার সময় এলে কিছু পণ্য শেষ হয়ে যায়, আবার কিছু পণ্য নতুন আসে। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই। সামনে দাম আরও বাড়বে কিনা সেটি আমদানির ওপর নির্ভর করবে।’

 

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, ‘বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং চলছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’