বাদশাহ মিয়াঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে রাস্তা কেটে ফেলে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে রাহাত শেখ নামে এক দুর্বৃত্তকারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দাসেরহাট পশ্চিমপাড়ার কয়েকটি পরিবারের শতাধিক লোকজনের চলাচলের জন্য শুকুর আলী খানের জমির উপর দিয়ে বহু বছর যাবৎ একটি রাস্তা ব্যবহার হয়ে আসছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক পথচারীসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।
২০১২-১৩ অর্থ বছরে মুকসুদপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকারের এলজিএসপির বরাদ্দকৃত ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে দাসেরহাট পশ্চিমপাড়া-ডাঙ্গাদূর্গাপুর সড়ক থেকে দাসেরহাট মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এরপরও সরকারের অর্থায়নে একাধিকবার রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে।
নিয়মিতভাবে এই রাস্তা দিয়ে লোকজন চলাচল করছিল। কিন্তু একই ইউনিয়নের ডাঙ্গাদুর্গাপুর গ্রামের আশরাফ শেখের ছেলে রাহাত শেখ গত ১৬ মে ২০২৫, শনিবার দুপুরে রাস্তাটির কয়েকটি স্থানে কেটে ফেলে এবং পাশের প্রায় ১০-১২টি মেহগনি গাছও কেটে দেয়। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
দাসেরহাট গ্রামের মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, “এই রাস্তা দিয়ে আমাদের কয়েকটি পরিবারের লোকজন এবং স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন চলাফেরা করে। রাহাত শেখ নামের এক দুর্বৃত্ত গতকাল রাস্তাটি কেটে ফেলেছে। অথচ এখানে তার কোনো জমি নেই। কেন রাস্তা কাটলো বুঝতে পারছি না।”
পথচারী অনিক বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই রাস্তাটি কেটে ফেলায় আমাদের যাতায়াতে চরম কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত রাহাতের বিচার চাই।”
স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক রোজিনা বেগম বলেন, “ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে লোক রাস্তা কেটেছে, তার এখানে কোনো জমি নেই। রাহাতকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
নির্মিত রাস্তার জমির মালিক মৃত শুকুর আলী খানের মেয়ে মারুফা খান জানান, “আমার পিতা জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে জমি দিয়েছেন। আমরা কাউকে রাস্তা কাটার অনুমতি দিইনি। এটা অনেক বড় অন্যায়।”
শুকুর আলী খানের শ্যালক, পার্শ্ববর্তী ডাঙ্গাদুর্গাপুর গ্রামের আয়ুব আলী শেখ জানান, “আমরা কেউ এই রাস্তা কাটার ব্যাপারে কিছু জানি না। শুনেছি রাহাত শেখ নামের একজন এই বেআইনি কাজ করেছে।”
গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মিলন লস্কর বলেন, “সরকারি বরাদ্দে নির্মিত কোনো রাস্তা কেউ এভাবে কেটে ফেলতে পারে না। এটি একটি গুরুতর অপরাধ।”
স্থানীয় জনগণ রাহাত শেখের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসনিম আক্তার জানান, “ওসি সাহেবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে রাস্তার যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 





















