ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মুকসুদপুরে পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্নের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদে কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী মীর পরিবার।

–

সোমবার (৩০ জুন) সকালে, মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

–

ইঞ্জিনিয়ার মো: রানা মীর তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় আমার ছোটভাই রওনক মীরকে নিয়ে এলাকার একটি কুচক্রী মহল উদ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে পারিবারিক ও রাজনৈতিক হেনস্থার লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

–

তিনি আরও বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য চীনে অবস্থানকালীন সময়ে ছোট ভাই রওনক মীরকে আইফোনসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টফোন এলাকায় তা অনলাইনে বিক্রয়সহ পার্ট টাইম কাজের ব্যবস্থা করে দেই।

–

গত ৯ জুন অনলাইনে অর্ডারকৃত একটি আইফোন ডেলিভারি দিতে ননীক্ষীর ইউনিয়নের নওখন্ডা স্টিল ব্রিজের নিকট গেলে সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে দামাদামি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
এ সময় ব্যাগ থেকে ৩ টি আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে লোকজনের উপস্থিতি দেখে চক্রটি পালিয়ে যায়। এরপর থেকে মীর পরিবার নিয়ে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে।

–

এ ঘটনার মাত্র ৩ দিন পর একই চক্রটি ভিন্ন নামের ফেইসবুক আইডি থেকে একটি ভিন্ন মডেলের আইফোন অর্ডার করে এবং ডেলিভারি লোকেশন দেন জলিরপাড়। ছোটভাই জলিরপাড় গিয়ে উক্ত নাম্বারে ফোন করলে ওকে আচারপাড়া নামক একটি গ্রামের নির্জন একটি মন্দিরের কাছে আসতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর পূর্বের সেই চক্রটি প্রত্যেকের হাতে থাকা ধারালো ছুরি, চাপাতি ও লোহার রডের মুখে আমার ছোটভাইকে জিম্মি করে ফেলে।
ডেলিভারির জন্য নিয়ে যাওয়া ওর সাথে থাকা তিনটি আইফোন ব্যাগসহ কেড়ে নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত পুরনো ভবনে আটকে রাখে।এর কিছুক্ষন পর একটি বাটন ফোন বের করে আমার ছোটভাই এর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাসায় ফোন করে টাকা পাঠাতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় লোহার রড দিয়ে আমার ছোটভাইকে পিঠে, পায়ে, পিছনে, হাত ও পাজরে প্রচন্ডভাবে শারীরিক নির্যাতন করে।

–

এক পর্যায়ে আমার ছোটভাই ফোন করতে রাজি হলে প্রথমে আমার বাবাকে ফোন করে ওঁদের নির্দেশমত দুই লাখ টাকা পাঠাতে বলেন। এর কিছুক্ষন পর আমার ভগ্নিপতি রবিন মুন্সী অপহরণকারীদের নাম্বারে ফোন করে নিজেকে একজন সেনা সদস্য এবং সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা ( ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিলে অপহরণকারীরা তৎক্ষনাৎ ফোন কেটে বন্ধ করে আমার ছোট ভাইকে প্রচন্ডভাবে পিটিয়ে একটি কাগজে লেখা স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে মুখস্থ করিয়ে তা বলানোর পাশাপাশি ভিডিও ধারন করে।

–

তিনি এ সময় আরও বলেন, প্রচন্ড শারীরিক ও পৈশাচিক নির্যাতনের মুখে আমার ভাইকে দিয়ে মনগড়া, হাস্যকর ও উদ্ভট সব কথা বলানো হয় যা আমার মীর পরিবারের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শের সাথে কোনভাবেই কাম্য নয়।
ভিডিও ধারন শেষে একই নাম্বার থেকে আমার বাবাকে ফোন করে এক ঘন্টার মধ্যে দুই লাখ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে না গেলে আমার ছোটভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পর আমার সেনা সদস্য ভগ্নিপতি রবিন মুন্সী বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করে অপহরণকারীদের লোকেশন ট্রাক করে মুকসুদপুর থানায় ফোন করে দুইজন পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে আমার ছোট ভাইকে উদ্ধার করতে গেলে খবর পেয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি আমার ছোটভাইকে প্রচন্ড আহত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

–

এ ঘটনার একদিন পর থেকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে আমার বাবাকে ভিডিওর কথা বলে ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা না দিলে সামাজিক ভাবে হয়রানি করতে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দিতে থাকেন।

–

আমার বাবা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ জুন সংঘবদ্ধ চক্রটি আমাদের এলাকার বহু বছরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উগ্রবাদীদের নিকট ভিডিওটি হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে পারিবারিক সুনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে অসংখ্য ফেইক আইডি দিয়ে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। চক্রটি যারা বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে যত দ্রুত সম্ভব মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দলকে বিব্রত না করতেই পদত্যাগ, মেয়র নির্বাচন করতে প্রস্তুত: ইশরাক হোসেন

error: Content is protected !!

মুকসুদপুরে পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্নের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : ১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
বাদশাহ মিয়া, মুক্সুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদে কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী মীর পরিবার।

–

সোমবার (৩০ জুন) সকালে, মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

–

ইঞ্জিনিয়ার মো: রানা মীর তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় আমার ছোটভাই রওনক মীরকে নিয়ে এলাকার একটি কুচক্রী মহল উদ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে পারিবারিক ও রাজনৈতিক হেনস্থার লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

–

তিনি আরও বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য চীনে অবস্থানকালীন সময়ে ছোট ভাই রওনক মীরকে আইফোনসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টফোন এলাকায় তা অনলাইনে বিক্রয়সহ পার্ট টাইম কাজের ব্যবস্থা করে দেই।

–

গত ৯ জুন অনলাইনে অর্ডারকৃত একটি আইফোন ডেলিভারি দিতে ননীক্ষীর ইউনিয়নের নওখন্ডা স্টিল ব্রিজের নিকট গেলে সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে দামাদামি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
এ সময় ব্যাগ থেকে ৩ টি আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে লোকজনের উপস্থিতি দেখে চক্রটি পালিয়ে যায়। এরপর থেকে মীর পরিবার নিয়ে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে।

–

এ ঘটনার মাত্র ৩ দিন পর একই চক্রটি ভিন্ন নামের ফেইসবুক আইডি থেকে একটি ভিন্ন মডেলের আইফোন অর্ডার করে এবং ডেলিভারি লোকেশন দেন জলিরপাড়। ছোটভাই জলিরপাড় গিয়ে উক্ত নাম্বারে ফোন করলে ওকে আচারপাড়া নামক একটি গ্রামের নির্জন একটি মন্দিরের কাছে আসতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর পূর্বের সেই চক্রটি প্রত্যেকের হাতে থাকা ধারালো ছুরি, চাপাতি ও লোহার রডের মুখে আমার ছোটভাইকে জিম্মি করে ফেলে।
ডেলিভারির জন্য নিয়ে যাওয়া ওর সাথে থাকা তিনটি আইফোন ব্যাগসহ কেড়ে নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত পুরনো ভবনে আটকে রাখে।এর কিছুক্ষন পর একটি বাটন ফোন বের করে আমার ছোটভাই এর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাসায় ফোন করে টাকা পাঠাতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় লোহার রড দিয়ে আমার ছোটভাইকে পিঠে, পায়ে, পিছনে, হাত ও পাজরে প্রচন্ডভাবে শারীরিক নির্যাতন করে।

–

এক পর্যায়ে আমার ছোটভাই ফোন করতে রাজি হলে প্রথমে আমার বাবাকে ফোন করে ওঁদের নির্দেশমত দুই লাখ টাকা পাঠাতে বলেন। এর কিছুক্ষন পর আমার ভগ্নিপতি রবিন মুন্সী অপহরণকারীদের নাম্বারে ফোন করে নিজেকে একজন সেনা সদস্য এবং সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা ( ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিলে অপহরণকারীরা তৎক্ষনাৎ ফোন কেটে বন্ধ করে আমার ছোট ভাইকে প্রচন্ডভাবে পিটিয়ে একটি কাগজে লেখা স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে মুখস্থ করিয়ে তা বলানোর পাশাপাশি ভিডিও ধারন করে।

–

তিনি এ সময় আরও বলেন, প্রচন্ড শারীরিক ও পৈশাচিক নির্যাতনের মুখে আমার ভাইকে দিয়ে মনগড়া, হাস্যকর ও উদ্ভট সব কথা বলানো হয় যা আমার মীর পরিবারের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শের সাথে কোনভাবেই কাম্য নয়।
ভিডিও ধারন শেষে একই নাম্বার থেকে আমার বাবাকে ফোন করে এক ঘন্টার মধ্যে দুই লাখ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে না গেলে আমার ছোটভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পর আমার সেনা সদস্য ভগ্নিপতি রবিন মুন্সী বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করে অপহরণকারীদের লোকেশন ট্রাক করে মুকসুদপুর থানায় ফোন করে দুইজন পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে আমার ছোট ভাইকে উদ্ধার করতে গেলে খবর পেয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি আমার ছোটভাইকে প্রচন্ড আহত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

–

এ ঘটনার একদিন পর থেকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে আমার বাবাকে ভিডিওর কথা বলে ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা না দিলে সামাজিক ভাবে হয়রানি করতে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দিতে থাকেন।

–

আমার বাবা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ জুন সংঘবদ্ধ চক্রটি আমাদের এলাকার বহু বছরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উগ্রবাদীদের নিকট ভিডিওটি হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে পারিবারিক সুনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে অসংখ্য ফেইক আইডি দিয়ে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। চক্রটি যারা বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে যত দ্রুত সম্ভব মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।