ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বাঘায় শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে পুলিশ-আনসার ও ভিডিপির সতর্ক পাহারা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন আনসার-ভিডিপি ও পুলিশের সদস্যরা। প্রতিটি মণ্ডপে সতর্ক পাহারা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের আন্তরিকতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয়রা আনসার-ভিডিপির এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ছবি তোলা, বন্ধুদের আড্ডা ও নানা আয়োজন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) উপজেলার নারায়ণপুর, বলিহার, পাকুড়িয়া, বাউসা ও আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি, আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

এদিন বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বলিহার মধ্যপাড়া কালীমাতার মন্দির, বলিহার সার্বজনীন শিবমন্দির ও বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার। তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকার বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পূজার দিনগুলি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক সোহেল রানা এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী।

পূজামণ্ডপ ঘিরে বসেছে নানা ধরনের দোকান। আলোকসজ্জায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে তরুণদের আড্ডা, চা পান ও ছবি তোলার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।

উপজেলায় এবার ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চালের পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, “সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে মিলেমিশে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। দুর্গাপূজা সত্য প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দেয়।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজার ও বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে গ্রামীণ নারীর লড়াই

error: Content is protected !!

বাঘায় শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে পুলিশ-আনসার ও ভিডিপির সতর্ক পাহারা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন আনসার-ভিডিপি ও পুলিশের সদস্যরা। প্রতিটি মণ্ডপে সতর্ক পাহারা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের আন্তরিকতা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয়রা আনসার-ভিডিপির এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ছবি তোলা, বন্ধুদের আড্ডা ও নানা আয়োজন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) উপজেলার নারায়ণপুর, বলিহার, পাকুড়িয়া, বাউসা ও আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি, আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

এদিন বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বলিহার মধ্যপাড়া কালীমাতার মন্দির, বলিহার সার্বজনীন শিবমন্দির ও বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার। তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকার বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পূজার দিনগুলি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক সোহেল রানা এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী।

পূজামণ্ডপ ঘিরে বসেছে নানা ধরনের দোকান। আলোকসজ্জায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে তরুণদের আড্ডা, চা পান ও ছবি তোলার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।

উপজেলায় এবার ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চালের পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, “সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে মিলেমিশে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। দুর্গাপূজা সত্য প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দেয়।”