ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন, এক শিশুর ১০ বছর কারাদণ্ড

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুরে ১৩ বছরের এক নাবালিকা শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন এবং এক শিশু আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আজ
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

‎‎যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার যোগিবরাট গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মো. সজীব শেখ (২৬) ও একই গ্রামের ইসলাম মোল্লার ছেলে মো. সোহেল মোল্লা (২৫)।

এ মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শিশু আসামি একই গ্রামের আবু বক্কার মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিন মোল্লা (২৪); ইয়াসিন ঘটনার সময় বয়সে শিশু ছিল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের সাথে টিভি দেখতেছিল। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিভি দেখা শেষে টিউবয়েলে হাত-মুখ ধুতে গেলে মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে মুখ বেঁধে ফেলে রেখে যায়।

 

পরে শিশুটির সাড়া শব্দ না পেয়ে মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে বাড়ির পাশে এক আসামীর বাড়ির উঠানে শিশুটিকে দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

 

‎‎এ ঘটনার তিনদিন পর ২০১৮ সালের ২ আগস্ট শিশুটির বাবা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলফাডাঙ্গা থানায় সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জসিট জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে ৭ বছরের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

‎‎বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পি.পি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। এ মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে ধর্ষকদের জন্য।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন, এক শিশুর ১০ বছর কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুরে ১৩ বছরের এক নাবালিকা শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন এবং এক শিশু আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আজ
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

‎‎যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার যোগিবরাট গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মো. সজীব শেখ (২৬) ও একই গ্রামের ইসলাম মোল্লার ছেলে মো. সোহেল মোল্লা (২৫)।

এ মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শিশু আসামি একই গ্রামের আবু বক্কার মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিন মোল্লা (২৪); ইয়াসিন ঘটনার সময় বয়সে শিশু ছিল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের সাথে টিভি দেখতেছিল। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিভি দেখা শেষে টিউবয়েলে হাত-মুখ ধুতে গেলে মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে মুখ বেঁধে ফেলে রেখে যায়।

 

পরে শিশুটির সাড়া শব্দ না পেয়ে মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে বাড়ির পাশে এক আসামীর বাড়ির উঠানে শিশুটিকে দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

 

‎‎এ ঘটনার তিনদিন পর ২০১৮ সালের ২ আগস্ট শিশুটির বাবা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলফাডাঙ্গা থানায় সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জসিট জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে ৭ বছরের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

‎‎বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পি.পি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। এ মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে ধর্ষকদের জন্য।