ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন

  • ফরিদপুর অফিসঃ
  • আপডেট টাইম : ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ৩১৫ বার পঠিত

পল্লী কবির সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও /রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।/ বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,/ একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি’।

কবির সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্ভি হতে শুরু করেছে। সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের এই পরিবর্তম শুরু হয়েছে ফরিদপুরে।

সরেজমিনে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বপ্ননগর ও নগরকান্দার আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের যাপিত জীবনের। কবির ওই ভেন্না পাতার ছাউনী থেকে তারা এখন বসবাস করছে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতেই করছে শাক- সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস মুরগি-ছাগল-গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।

আশ্রয়ণ প্রকল্পকের বাসিন্দারা গঠন করেছে সমবায় সমিতি; নিয়মিত নিচ্ছে প্রশিক্ষণ; অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জেলায় হতদরিদ্র যাদের বসবাসের কোন ঠিকানা ছিলো না, তাদের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এটা সত্যিই বিষ্ময়কর। ওই মানুষগুলো তাদের ভাগ্যে চাকা নতুন ভাবে ঘুরাতে শুরু করেছে।

ফরিদপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তামলিমা আলি জানান, তৃতীয় দফায় সব মিলেয়ে প্রায় ৫ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ভূমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্ব্যয়ে যোগ্যদের চিহ্নত করে ঘর দেয়া হয়েছে।

বদলে যাওয়া আশ্রয়হীণ ছবেদা বেগম, লতিফা আক্তার, হাফিজুর রহমানসহ আরো অনেকেই বলেন, ‘কিছু দিন আগেও ভাবিনী নিজের ভাল একটা বসবাসের ঠিকা হবে, এখন সেটি হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি, নিজের হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সত্যই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে হাসিনার জন্য দোয়া করি।

 বোয়ালমারী ইউএনও  রেজাউল করিম ও  নগরকান্দার ইউএনও জেতী প্রু জানালেন,‘আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের জীবন মান উন্নয়নে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে, আমরা সরকারে পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করছি, এই প্রকল্প পৃথিবীতে একটি রোল মডেল, কারণ এভাবে কোন দেশে অশ্রয়হীনদের জন্য সরকারি ভাবে নিরাপত ছাদ তৈরী ব্যবস্থা করা হয়নি।’

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরে আমরা আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন বেশ কয়েকটি স্থানে শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা,মন্দির তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন এবং ঋণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আমরা চাই ছিন্ন মুল মানুষগুলো নিজের পায়ে দাড়াতে শিখুক ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় এক কক্ষে পর্দা টাঙিয়ে চলছে দুই শ্রেণির পাঠদান

error: Content is protected !!

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন

আপডেট টাইম : ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২
ফরিদপুর অফিসঃ :

পল্লী কবির সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও /রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।/ বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,/ একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি’।

কবির সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্ভি হতে শুরু করেছে। সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের এই পরিবর্তম শুরু হয়েছে ফরিদপুরে।

সরেজমিনে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বপ্ননগর ও নগরকান্দার আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের যাপিত জীবনের। কবির ওই ভেন্না পাতার ছাউনী থেকে তারা এখন বসবাস করছে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতেই করছে শাক- সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস মুরগি-ছাগল-গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।

আশ্রয়ণ প্রকল্পকের বাসিন্দারা গঠন করেছে সমবায় সমিতি; নিয়মিত নিচ্ছে প্রশিক্ষণ; অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জেলায় হতদরিদ্র যাদের বসবাসের কোন ঠিকানা ছিলো না, তাদের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এটা সত্যিই বিষ্ময়কর। ওই মানুষগুলো তাদের ভাগ্যে চাকা নতুন ভাবে ঘুরাতে শুরু করেছে।

ফরিদপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তামলিমা আলি জানান, তৃতীয় দফায় সব মিলেয়ে প্রায় ৫ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ভূমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্ব্যয়ে যোগ্যদের চিহ্নত করে ঘর দেয়া হয়েছে।

বদলে যাওয়া আশ্রয়হীণ ছবেদা বেগম, লতিফা আক্তার, হাফিজুর রহমানসহ আরো অনেকেই বলেন, ‘কিছু দিন আগেও ভাবিনী নিজের ভাল একটা বসবাসের ঠিকা হবে, এখন সেটি হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি, নিজের হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সত্যই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে হাসিনার জন্য দোয়া করি।

 বোয়ালমারী ইউএনও  রেজাউল করিম ও  নগরকান্দার ইউএনও জেতী প্রু জানালেন,‘আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের জীবন মান উন্নয়নে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে, আমরা সরকারে পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করছি, এই প্রকল্প পৃথিবীতে একটি রোল মডেল, কারণ এভাবে কোন দেশে অশ্রয়হীনদের জন্য সরকারি ভাবে নিরাপত ছাদ তৈরী ব্যবস্থা করা হয়নি।’

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরে আমরা আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন বেশ কয়েকটি স্থানে শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা,মন্দির তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন এবং ঋণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আমরা চাই ছিন্ন মুল মানুষগুলো নিজের পায়ে দাড়াতে শিখুক ।