ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

মার্চের মধ্যে সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর আশা

প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ পদ্মা সেতুতে, কাজ শেষ ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’

পাথরবিহীন রেলপথে ট্রেন চলাচলে ঝাঁকুনি হয় না; পদ্মা সেতুর জন্য ঝাঁকুনিবিহীন রেললাইন প্রয়োজন।

-১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার পাথরবিহীন রেলপথের অংশ।

পদ্মা সেতুতে দেশের প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রেললিংক’-এর প্রকল্প পরিদর্শন প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র রায় জানান, এ ধরনের রেলপথ নির্মাণে খরচ বেশি হলেও এতে ট্রেন চলে দ্রুতগতিতে এবং ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। রক্ষণাবেক্ষণেও কোনো ব্যয় নেই।

সেতুর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্টসহ এ রেলপথের দৈর্ঘ্য মোট ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, প্রকল্পটির অধীনে পদ্মা সেতুর অংশসহ ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনটি ভাগে এ নির্মাণকাজ চলছে।

এগুলো হলো ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর। মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে রয়েছে পদ্মা সেতু।

প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র আরও জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ। এখন সেতুর মাঝ বরাবরে ৫০০ মিটার রেললাইন নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, সেতু থেকে জাজিরার পদ্মা স্টেশন পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ৪ কিলোমিটার ও সেতু থেকে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেলপথ হচ্ছে পাথরবিহীন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালানোর আশা করছেন বলে সঞ্জয় জানান।

সঞ্জয় চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, “বাংলাদেশে প্রথম নতুন প্রযুক্তির পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে। এ ধরনের রেলপথে ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। সেতুতে যেন কোনো ঝাঁকুনি (জার্কিং) না হয়, তার জন্য পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

রেললিংকের এ প্রকল্পের পাথরবিহীন রেলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জহিরুল হক বলেন, সেতুর স্প্যানের ওপর লোহার খাঁচা বানানো হয়েছে। তার ওপর রেলট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি রেলট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার। তাতে ৪২টি স্লিপার রয়েছে। রেলট্র্যাক ও স্লিপার কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করে আটকে দেওয়া হয়েছে।

জহিরুল হক আরও বলেন, “এখনও বাংলাদেশে পাথরবিহীন রেলপথ নেই। এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে নির্মাণ করার সময় ব্যয় বেশি হলেও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ব্যয় নেই। এ রেল লাইনে কোনো ঝাঁকুনি হয় না। পদ্মা সেতুর জন্য ঝাঁকুনিবিহীন রেললাইন প্রয়োজন। তাই করা হয়েছে।”

এ রেলপথে দ্রুতগতির ট্রেন চালানো যাবে জানিয়ে এ প্রকৌশলী বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পাথরবিহীন রেলপথ দিয়ে ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারে। পদ্মা সেতুতে এর গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার পাথরবিহীন রেলপথের মধ্যে সেতুতে ৫০০ মিটারের কাজ বাকি আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা হবে।”

মার্চের মধ্যে সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর আশা করছেন তিনি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএমডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

error: Content is protected !!

মার্চের মধ্যে সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর আশা

প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ পদ্মা সেতুতে, কাজ শেষ ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’

আপডেট টাইম : ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

পদ্মা সেতুতে দেশের প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রেললিংক’-এর প্রকল্প পরিদর্শন প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র রায় জানান, এ ধরনের রেলপথ নির্মাণে খরচ বেশি হলেও এতে ট্রেন চলে দ্রুতগতিতে এবং ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। রক্ষণাবেক্ষণেও কোনো ব্যয় নেই।

সেতুর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্টসহ এ রেলপথের দৈর্ঘ্য মোট ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, প্রকল্পটির অধীনে পদ্মা সেতুর অংশসহ ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনটি ভাগে এ নির্মাণকাজ চলছে।

এগুলো হলো ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর। মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে রয়েছে পদ্মা সেতু।

প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র আরও জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ। এখন সেতুর মাঝ বরাবরে ৫০০ মিটার রেললাইন নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, সেতু থেকে জাজিরার পদ্মা স্টেশন পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ৪ কিলোমিটার ও সেতু থেকে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেলপথ হচ্ছে পাথরবিহীন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালানোর আশা করছেন বলে সঞ্জয় জানান।

সঞ্জয় চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, “বাংলাদেশে প্রথম নতুন প্রযুক্তির পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে। এ ধরনের রেলপথে ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। সেতুতে যেন কোনো ঝাঁকুনি (জার্কিং) না হয়, তার জন্য পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

রেললিংকের এ প্রকল্পের পাথরবিহীন রেলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জহিরুল হক বলেন, সেতুর স্প্যানের ওপর লোহার খাঁচা বানানো হয়েছে। তার ওপর রেলট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি রেলট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার। তাতে ৪২টি স্লিপার রয়েছে। রেলট্র্যাক ও স্লিপার কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করে আটকে দেওয়া হয়েছে।

জহিরুল হক আরও বলেন, “এখনও বাংলাদেশে পাথরবিহীন রেলপথ নেই। এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে নির্মাণ করার সময় ব্যয় বেশি হলেও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ব্যয় নেই। এ রেল লাইনে কোনো ঝাঁকুনি হয় না। পদ্মা সেতুর জন্য ঝাঁকুনিবিহীন রেললাইন প্রয়োজন। তাই করা হয়েছে।”

এ রেলপথে দ্রুতগতির ট্রেন চালানো যাবে জানিয়ে এ প্রকৌশলী বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পাথরবিহীন রেলপথ দিয়ে ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারে। পদ্মা সেতুতে এর গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার পাথরবিহীন রেলপথের মধ্যে সেতুতে ৫০০ মিটারের কাজ বাকি আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা হবে।”

মার্চের মধ্যে সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর আশা করছেন তিনি।