আসলাম বেপারীঃ
পদ্মা নদী ও এর শাখা-প্রশাখা, খাল-বিল, জলাশয়ে ফের ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারী। অবাধে এসব মরণফাঁদ ব্যবহার করে জাটকা ইলিশ, পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মা মাছসহ সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ, কুচিয়া, ব্যাঙ, সাপ, পোকা-মাকড় এমনকি বিপন্ন শুশুক পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। ফলে পদ্মার জলজ জীববৈচিত্র্য এখন বিলুপ্তির চূড়ান্ত সীমায়।
স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু অসাধু জেলে গোষ্ঠী লাভের লোভে বছরের বারো মাসই এসব নিষিদ্ধ জাল ফেলছে। কারেন্ট জালের সূক্ষ্ম ফাঁসে আটকে যাচ্ছে পোনা থেকে ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত। ফলে প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় ইলিশসহ অনেক দেশি প্রজাতি এখন দেখাই যায় না। চায়না দোয়ারীতে একবারে শত শত কেজি মাছ ধরা পড়লেও তাতে নষ্ট হচ্ছে পুরো বাস্তুতন্ত্র।
“এভাবে চললে আগামী প্রজন্ম শুধু ছবিতে আর গল্পে দেশি ইলিশ, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস দেখবে”—আক্ষেপ করে বলেন স্থানীয় জেলে আব্দুর রহিম। মাছ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, “যেভাবে পোনা-জাটকা নিধন হচ্ছে, আর কয়েক বছর পর দেশে মাছের উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যাবে।”
চরভদ্রাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, “চায়না দোয়ারী ও কারেন্ট জাল এখন মৎস্যসম্পদের সবচেয়ে বড় শত্রু। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছি, জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলছি। কিন্তু জেলেদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মদদ থাকায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, শুধু অভিযান নয়, নদীতে সার্বক্ষণিক নজরদারি, জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং কঠোর শাস্তির বিধান না করলে পদ্মা থেকে দেশি মাছ ও জলজ প্রাণী চিরতরে হারিয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
আসলাম বেপারী, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি 




















