ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গর মিষ্টি

প্রদীপ্ত চক্রবর্তীঃ

চুলা থেকে নামিয়ে ভান্ডারে রাখতেই হুড়াহুড়ি লেগে গেল । জটলা ঠেলে হাত বাড়িয়ে কার আগে কে কিনবেন , খাবেন তা নিয়ে চলছে কিছুটা বাগ বিতন্ডা । মিষ্টিটা গরম তাই কিনতে , খেতে হবে তাড়াতাড়ি । ঠান্ডা হলে উধাও হবে আসল স্বাদ । চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া কমল মুন্সী হাটের ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতান এর রোজকার চিত্রটা এমনই । জিভে স্বাদ লেগে থাকা মজাদার এ মিষ্টির রয়েছে পুরনো ঐতিহ্য । রয়েছে দারুণ খ্যাতি।

.

প্রতিদিন সকালে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় খাঁটি দুধ । সেই দুধ থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে তৈরি হয় মিষ্টি । প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি দুধ আসে গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতানের রান্না ঘরে । যেখান থেকে ছানা তৈরি হয় । ছানা তৈরি করার আগে দুধ চুলায় ফুটানো হয় । ফুটানোর পর তাতে সিরকা বা ভিনেগার দেওয়া হয় । তবে পুরনো রীতি অনুযায়ী তারা ব্যবহার করেন ছানার পানি । ঠান্ডা হয়ে গেলে এই দুধের পানি আর ছানা আলাদা হয়ে যায় । একটু পর সেগুলো পরিষ্কার সুতি কাপড় বেঁধে পানি ঝরাতে দেওয়া হয় । পুরো পানি ঝরে গেলে তৈরি হয় ছানা । হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছানা থেকে গোলাকার অবয়ব তৈরি করে তা চুলার শিরায় ছেড়ে দেওয়া হয় । ব্যস ! তৈরি হয়ে গেল রসগোল্লা , কালোজাম , চমচম এর মত সুস্বাদু মিষ্টি।

.

গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতানের স্বত্বাধিকারী সুমন দাস দোকানের ঐতিহ্য সম্পর্কে বলেন , ১৯৭৩ সালে তার ঠাকুর দাদা সারদা দাস চট্টগ্রাম শহরের কোরবানীগঞ্জের এক মিষ্টির দোকান থেকে কাজ শিখে এসে এখানে দোকান দেন । পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে সারদা দাসের মৃত্যুর পর তার বাবা গৌরাঙ্গ দাস এই দোকানের হাল ধরেন । ২০১২ সালে গৌরাঙ্গ দাসের মৃত্যুর পর থেকে সুমন দাস এই দোকান পরিচালনা করা আসছেন ।

.

তিনি বলেন আমাদের মিষ্টির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমরা সবসময়ই নির্ভেজাল ছানার মিষ্টি তৈরি করে থাকি । ৬ কেজি দুধ থেকে ১ কেজি ছানা হয় । ১ কেজি ছানা দিয়ে সাড়ে ৩ কেজি মিষ্টি তৈরি হয় । যে কোন উৎসব ,অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয় গৌরাঙ্গের মিষ্টি ‘র । অনুষ্ঠান উৎসবে অতিথি আপ্যায়ন এই গৌরাঙ্গর মিষ্টি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না । তাইতো সবাই বলে গৌরাঙ্গর মিষ্টি অপূর্ব সৃষ্টি ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে চার স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, শহরজুড়ে আতঙ্ক

error: Content is protected !!

পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গর মিষ্টি

আপডেট টাইম : ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
প্রদীপ্ত চক্রবর্তী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

প্রদীপ্ত চক্রবর্তীঃ

চুলা থেকে নামিয়ে ভান্ডারে রাখতেই হুড়াহুড়ি লেগে গেল । জটলা ঠেলে হাত বাড়িয়ে কার আগে কে কিনবেন , খাবেন তা নিয়ে চলছে কিছুটা বাগ বিতন্ডা । মিষ্টিটা গরম তাই কিনতে , খেতে হবে তাড়াতাড়ি । ঠান্ডা হলে উধাও হবে আসল স্বাদ । চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া কমল মুন্সী হাটের ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতান এর রোজকার চিত্রটা এমনই । জিভে স্বাদ লেগে থাকা মজাদার এ মিষ্টির রয়েছে পুরনো ঐতিহ্য । রয়েছে দারুণ খ্যাতি।

.

প্রতিদিন সকালে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় খাঁটি দুধ । সেই দুধ থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে তৈরি হয় মিষ্টি । প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি দুধ আসে গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতানের রান্না ঘরে । যেখান থেকে ছানা তৈরি হয় । ছানা তৈরি করার আগে দুধ চুলায় ফুটানো হয় । ফুটানোর পর তাতে সিরকা বা ভিনেগার দেওয়া হয় । তবে পুরনো রীতি অনুযায়ী তারা ব্যবহার করেন ছানার পানি । ঠান্ডা হয়ে গেলে এই দুধের পানি আর ছানা আলাদা হয়ে যায় । একটু পর সেগুলো পরিষ্কার সুতি কাপড় বেঁধে পানি ঝরাতে দেওয়া হয় । পুরো পানি ঝরে গেলে তৈরি হয় ছানা । হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছানা থেকে গোলাকার অবয়ব তৈরি করে তা চুলার শিরায় ছেড়ে দেওয়া হয় । ব্যস ! তৈরি হয়ে গেল রসগোল্লা , কালোজাম , চমচম এর মত সুস্বাদু মিষ্টি।

.

গৌরাঙ্গ মিষ্টি বিতানের স্বত্বাধিকারী সুমন দাস দোকানের ঐতিহ্য সম্পর্কে বলেন , ১৯৭৩ সালে তার ঠাকুর দাদা সারদা দাস চট্টগ্রাম শহরের কোরবানীগঞ্জের এক মিষ্টির দোকান থেকে কাজ শিখে এসে এখানে দোকান দেন । পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে সারদা দাসের মৃত্যুর পর তার বাবা গৌরাঙ্গ দাস এই দোকানের হাল ধরেন । ২০১২ সালে গৌরাঙ্গ দাসের মৃত্যুর পর থেকে সুমন দাস এই দোকান পরিচালনা করা আসছেন ।

.

তিনি বলেন আমাদের মিষ্টির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমরা সবসময়ই নির্ভেজাল ছানার মিষ্টি তৈরি করে থাকি । ৬ কেজি দুধ থেকে ১ কেজি ছানা হয় । ১ কেজি ছানা দিয়ে সাড়ে ৩ কেজি মিষ্টি তৈরি হয় । যে কোন উৎসব ,অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয় গৌরাঙ্গের মিষ্টি ‘র । অনুষ্ঠান উৎসবে অতিথি আপ্যায়ন এই গৌরাঙ্গর মিষ্টি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না । তাইতো সবাই বলে গৌরাঙ্গর মিষ্টি অপূর্ব সৃষ্টি ।