ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তানোরে ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরে মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে রোজার শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দর্জির দোকানগুলোর কারিগররা সবাই ব্যস্ত। কেউ সেলাই, কেউ বোতাম লাগানোয়, কেউ কাপড় কাটায়, আবার কেউবা লন্ড্রি করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা-কাপড় সাজিয়ে রাখছেন। কারোই দম ফেলানোর সময় নেই।

 

প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত দর্জিপাড়ায় চলছে কাজ। দর্জিপাড়ার এমন চিত্র দেখলে মনে হবে এ যেন সুই-সুতার বিরামহীন যুদ্ধ। তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর শহরসহ উপজেলার সকল হাট-বাজারেই এখন দর্জি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ভীষণ ব্যস্ততা। তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। তবে আলু ও পেঁয়াজের তেমন দাম না থাকায় কৃষকের হাতে পয়সা নেই, যার প্রভাব পড়েছে এবার ঈদ বাজারে।

 

সরেজমিন তানোর পৌর সদরের কয়েকটি দর্জির দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক কিনে তৈরির জন্য দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ। তাদের পোশাক তৈরি করতে বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দর্জিরা। তাদের এখন লক্ষ্য কেবল অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে হস্তান্তর করা। তাইতো ক্লান্তি উপেক্ষা করে নিজেদের কাজে মনোযোগী তারা। দর্জিদের কাছে পুরুষদের চেয়ে নারীদের পোশাক তৈরির অর্ডার সবচেয়ে বেশি।

 

এদিকে বর্তমানে দর্জির দোকানগুলোতে প্রতি পিস প্যান্ট ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পায়জামা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, থ্রি-পিস প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রকারভেদে সেলোয়ার-কামিজের মজুরি নেওয়া হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ব্লাউজ ও পেটিকোট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বাচ্চাদের পোশাক সেট অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে সেলাই করা হয়।

 

কর্মব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স রাজশাহী টেইলার্স কারখানার কয়েকজন কারিগরের সঙ্গে। ওই কারখানায় একজন মাস্টারসহ মোট ৪ জন কারিগর কাজ করেন। যাদের মধ্যে একজন রতন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত।

 

গোল্লাপাড়া বাজারের সিটি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছরের ঈদের চেয়ে এ বছরের ঈদে কাজের চাপ অনেক কম। তিনি বলেন, গত বছর রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু এবার ১৫ রোজা পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ ছিল না। ১৫ রোজার পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে।

 

মুন্ডুমালা বাজারের একটি টেইলার্সের এক কারিগর বলেন, ঈদের সময় দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো আয় হয়। এই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। তবে বছরের অন্যান্য সময় কাজ কিছুটা কম থাকে। তখন দৈনিক গড়ে পাঁচশত টাকার মতো আয় হয়।

 

এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমাদের থানা পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এরপরও যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৫তম বিসিএস: বঞ্চিতদের সম্পূরক গেজেটে নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

error: Content is protected !!

তানোরে ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়

আপডেট টাইম : ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরে মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে রোজার শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দর্জির দোকানগুলোর কারিগররা সবাই ব্যস্ত। কেউ সেলাই, কেউ বোতাম লাগানোয়, কেউ কাপড় কাটায়, আবার কেউবা লন্ড্রি করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা-কাপড় সাজিয়ে রাখছেন। কারোই দম ফেলানোর সময় নেই।

 

প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত দর্জিপাড়ায় চলছে কাজ। দর্জিপাড়ার এমন চিত্র দেখলে মনে হবে এ যেন সুই-সুতার বিরামহীন যুদ্ধ। তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর শহরসহ উপজেলার সকল হাট-বাজারেই এখন দর্জি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ভীষণ ব্যস্ততা। তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। তবে আলু ও পেঁয়াজের তেমন দাম না থাকায় কৃষকের হাতে পয়সা নেই, যার প্রভাব পড়েছে এবার ঈদ বাজারে।

 

সরেজমিন তানোর পৌর সদরের কয়েকটি দর্জির দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক কিনে তৈরির জন্য দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ। তাদের পোশাক তৈরি করতে বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দর্জিরা। তাদের এখন লক্ষ্য কেবল অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে হস্তান্তর করা। তাইতো ক্লান্তি উপেক্ষা করে নিজেদের কাজে মনোযোগী তারা। দর্জিদের কাছে পুরুষদের চেয়ে নারীদের পোশাক তৈরির অর্ডার সবচেয়ে বেশি।

 

এদিকে বর্তমানে দর্জির দোকানগুলোতে প্রতি পিস প্যান্ট ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পায়জামা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, থ্রি-পিস প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রকারভেদে সেলোয়ার-কামিজের মজুরি নেওয়া হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ব্লাউজ ও পেটিকোট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বাচ্চাদের পোশাক সেট অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে সেলাই করা হয়।

 

কর্মব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স রাজশাহী টেইলার্স কারখানার কয়েকজন কারিগরের সঙ্গে। ওই কারখানায় একজন মাস্টারসহ মোট ৪ জন কারিগর কাজ করেন। যাদের মধ্যে একজন রতন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত।

 

গোল্লাপাড়া বাজারের সিটি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছরের ঈদের চেয়ে এ বছরের ঈদে কাজের চাপ অনেক কম। তিনি বলেন, গত বছর রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু এবার ১৫ রোজা পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ ছিল না। ১৫ রোজার পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে।

 

মুন্ডুমালা বাজারের একটি টেইলার্সের এক কারিগর বলেন, ঈদের সময় দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো আয় হয়। এই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। তবে বছরের অন্যান্য সময় কাজ কিছুটা কম থাকে। তখন দৈনিক গড়ে পাঁচশত টাকার মতো আয় হয়।

 

এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমাদের থানা পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এরপরও যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে।